kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

লামায় ঢলের পানি কমার পর বাড়ছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি   

২৯ জুলাই, ২০২১ ১৮:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লামায় ঢলের পানি কমার পর বাড়ছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা

বান্দরবানের লামা উপজেলার পৌরসভা এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ অঞ্চল পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় টানা দুই দিন তলিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ না হলে দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছন।

এদিকে, টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পাহাড় ধ্বসের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে  ইতিমধ্যে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে কিংবা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সরে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা যায়, টানা বর্ষণের ফলে লামা পৌরসভার মাঝিপাড়া, নয়াপাড়া, বাজার পাড়া, উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল পাড়া, ছোট নুনারবিল, লামা থানা এলাকা, বড় নুনারবিল, মধুঝিরি, ছাগলখাইয়া, হরিনঝিরি, শিলেরতুয়া, কলিঙ্গাবিল ও লামামুখ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এ সময় লামা থানাসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরও বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া উপজেলার লামা সদর ইউনিয়ন, গজালিয়া, রুপসী পাড়া ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। প্লাবিত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করলেও পুরোপুরি নেমে না যাওয়ায় অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া বন্যা কবলিতরা এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেনি। আশ্রয়কালীন সময় পানিবন্দি ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের পৌরসভার পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত ও টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে প্রাথমিকভাবে ৪ হাজার ২৫০টি বসতঘর আংশিক এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকার ৩ হাজার ৭৫০টি ও ৭টি ইউনিয়নের ৫০০ বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ৬৮৪ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, মৌসুমি ফসল ও ফলদ-বনজ বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রাস্তা ঘাট বিধস্ত হয়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণের ফলে ফাটল ধরা পাহাড়গুলো ধ্বসে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে পাহাড় ধ্বসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। টানা বর্ষণ আবারো শুরু হলে ব্যাপক হারে পাহাড় ধ্বসে এলাকায় ব্যপক জান-মালের ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

লামা পৌরসভা মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, টানা বর্ষণের শুরুতেই ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরবাসীদের যথাসময়ে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরও ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসে সাড়ে ৩ হাজার ৭৫০টি ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোসহ বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ ও শুকনো খাবার বিতরণ করার পাশাপাশি পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ ও অলিগলিতে জমে থাকা পলি ও ময়লা আবর্জনা অপসারণ করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামাল জানান, চার দিনের টানা বর্ষণের ফলে উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। এ ছাড়া কৃষকেরাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা