kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

হাতীবান্ধায় মাদকাসক্ত শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, গণপিটিশন

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৯ জুলাই, ২০২১ ১৫:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতীবান্ধায় মাদকাসক্ত শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, গণপিটিশন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সহকারী শিক্ষক শাহিন এবং তার ভাই সজিব ও জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় গত বুধবার (২৮ জুলাই) উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের স্থানীয়রা পোস্ট অফিসের (ডাক যোগাযোগ) মাধ্যমে ওই তিনজনের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও গণপিটিশন দিয়েছেন স্থানীয়রা। 

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে এই লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়। 

আব্দুস সাত্তার শাহিন উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের মধ্যম কাদমা এলাকার মৃত শাহাজান চাকলাদারের ছেলে ও মাস্টারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। শাহিনের ভাই সজিব এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে জুয়েল। 

স্থানীয়দের স্বাক্ষর করা গণপিটিশনে উল্লেখ রয়েছে, সহকারী শিক্ষক শাহিন, তার ভাই সজিব ও জুয়েল এলাকায় সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তারা ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশার সঙ্গে জড়িত। ওই তিনজনের কারণে এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা নষ্ট হওয়ার পথে। তাদের কারণে এলাকার সব বয়সের মানুষ ভয়ে থাকেন। 

এ বিষয়ে গণপিটিশনে স্বাক্ষরকারী স্থানীয় হাফিজুর রহমান বলেন, ওই তিনজনের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। শিক্ষক হয়ে সবসময় নেশা ডুবে থাকেন। এমনকি তরুণ যুবকদের নেশায় আসক্ত করে জীবন নষ্ট করে দিচ্ছেন তারা। আমরা এর বিচারের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অবিযোগ দিয়েছি। 

গণপিটিশনে স্বাক্ষকরকারী অপর একজন স্থানীয় মনোয়ারা খাতুন বলেন, একজন শিক্ষকের কাছে আমাদের সন্তানরা সুপথে চলার শিক্ষা নেবে। কিন্তু এই শিক্ষক তো তরুণদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছেন। এ ছাড়া এলাকাবাসী ওই শিক্ষকসহ সজিব, জুয়েলের ওপর অতিষ্ঠ। 

এ বিষয়ে মাস্টারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সাত্তার শাহিন বলেন, আমি নেশা করি না। ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব। 

এ বিষয়ে মাস্টারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক খগেশ্বর বলেন, লোকমুখে শনেছি। তবে নিজের চোখে দেখি নাই।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) জাকির হোসাইন সরকার বলেন, অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, এসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, এ রকম কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি, অভিযোগটি পেলে তদন্ত করে আমাদের যেটা করণীয় সেটাই করব।



সাতদিনের সেরা