kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ!

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৮ জুলাই, ২০২১ ১৭:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ!

ভরা মৌসুমেও ‘ইলিশ মোকাম’ হিসেবে পরিচিত আনোয়ারা উপকূলে রায়পুরের সরেঙ্গা, পূর্ব গহিরা, ফকিরহাট, গলাকাটা ঘাট, বাতিঘর, ধলঘাট, বার আউলিয়া, উঠান মাঝির ঘাট, দোভাষী ঘাট ও ছিপাতলী ঘাট, জুঁইদণ্ডী সাপমারা খালের মুখ এবং বারশতের পারকী বাজারসহ ১২টির অধিক ঘাটের মিলছে না ইলিশ।

সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে নামলেও অনেকটা খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। কাঙ্খিত পরিমাণ ইলিশের দেখা না পাওয়ায় দাদনের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা।

জানা গেছে, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার কথা থাকলেও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার কাছাকাছি এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে শুরুতেই কয়েকদিন ধরে সাগর উত্তাল ছিল।

এসময় উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া, ধলঘাট, ফকিরহাট, বাইন্যার দিঘি, দক্ষিণ সরেঙ্গা, দোভাষী বাজার ও ছিপাতলী ঘাট এলাকায় মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও যেতে পারেননি জেলেরা। কয়েকটি ট্রলার ইলিশের খোঁজে সাগরে যাত্রা করলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে আবারো ঘাটে ফিরে এসেছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী মাহমুদুল হক বলেন, এ বছর ইলিশ ধরার শুরুতেই গত বছরের মত এখনো বড় আকারের মাছ ধরা পড়েনি। গত কয়েকদিন ধরে যে মাছ ধরা পড়েছে মৎস্যজীবীদের জালে, সেগুলো মাঝারি ও ছোট আকারের। যার কারণে এ সব মাছের বাজার দর ও চাহিদাও অনেক কম থাকে তাই মৎস্যজীবীদের লোকসানের ভয়ও বেশি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মাঝারি আকারের মাছ প্রতি মণ (৪০ কেজি) ১৩ হাজার আর ছোট আকারের ইলিশ প্রতিমণ (৪০ কেজি) আট থেকে সাত হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশগুলো চট্টগ্রাম শহরের  সদর ঘাট ও ঢাকার যাত্রা বাড়ির পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনা আর লকডাউনের কারণে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায়ও দুচিন্তার শেষ নেই। 

মধ্যম গহিরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি সভাপতি ছালে আহমদ জানান, আনোয়ারার উপকূলের বাসিন্দাদের জীবন জীবিকা হল নদী ও সাগরে মাছ ধরে। প্রকৃতির বৈরিতার সাথে যুদ্ধ  করে মৃত্যু ভয় এড়িয়ে সাগরে মাছ ধরেন মৎস্যজীবীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ২৪ জুলাই থেকে সাগরে ইলিশ মাছ ধরতে যান আনোয়ারার দুই হাজারেরও বেশি জেলে।

উপকূলের কাছে কিংবা  দূরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের প্রত্যাশা ছিল বড় আকারের ও বেশি পরিমান মাছ ধরতে পারার, কিন্তু গত চার দিন মাছ ধরে সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বেশির ভাগ জেলে মাঝে হতাশা দেখা দিলেও আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বড় মাছ পাওয়ার আশা সকলের।

আনোয়ারা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাশিদুল হক বলেন, উপকূলে বেশি পরিমান ইলিশ ধরা পড়ায় এলাকায় খুশির আমেজ বিরাজ করছে। আনোয়ারায় তিন হাজার ৫৮৯ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে তাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি সৎস্যজীবী সাগরে ইলিশ মাছ ধরে থাকেন। 



সাতদিনের সেরা