kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

দুপুরে বিয়ে, ভোরে গিয়ে কনেকে ছুরিকাঘাত!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২৮ জুলাই, ২০২১ ১৭:০৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুপুরে বিয়ে, ভোরে গিয়ে কনেকে ছুরিকাঘাত!

প্রতীকী ছবি।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিয়ের দিন ভোরে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তারমিনা আক্তার ওরফে ফুলতি (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৮ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে রংপুরের বদরগঞ্জে উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সাজানোগ্রাম এলাকায়।

ছুরিকাঘাতের পর ঘাতক শাখাওয়াতকে ধাওয়া দিলে ঘটনাস্থল থেকে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। তারমিনা একই এলাকার তোয়াব আলীর মেয়ে।

জানা যায়, পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়বালায় তারমিনা আক্তারের বড় বোন তহমিনার বিয়ে হয়। তহমিনার আত্মীয়তার সম্পর্কে মোনায়েম হোসেনের বখাটে ছেলে শাখাওয়াতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তারমিনার। সে কারণে শাখাওয়াত হোসেন প্রেমের প্রস্তাব দেয় তারমিনাকে। এর মধ্যে পারিবারিকভাবে আজ বুধবার তারমিনার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের গাছুয়াপাড়া এলাকায় আবু সাইদের ছেলে সাকিরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের দিন তারিখ ধার্য হয়।

এ ঘটনা জানতে পেরে শাখাওয়াত হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আজ ভোরে ছুটে আসে তার বাড়ি। সবাই তখনও ঘুম। শাখাওয়াত ঘুম থেকে তারমিনাকে ডেকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় তার চিৎকারে সবাই ছুটে এলে পালিয়ে যান শাখাওয়াত। পরে তারমিনাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তারমিনার মামা আমিরুল ইসলাম বলেন, আজ ওর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোরের দিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মেয়েটাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তারমিনার বাবা দরিদ্র কৃষক। অতিকষ্টে কিছু টাকা জোগাড় করে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছেন।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স (ইনচার্জ) রেবেকা সুলতানা বলেন, মারাত্মক আহত অবস্থায় মেয়েটিকে আজ সকালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে প্রফেসর ডা. জাভেদ আখতার ও প্রফেসর ডা. হামিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। তার সুস্থ হতে বেশ সময় লাগতে পারে।'

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ভোরবেলায় ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে থানায় আসেনি। একজন পুলিশ কর্তকর্তাকে ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা দিতে পাঠানো হয়েছে।



সাতদিনের সেরা