kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

'মেশিন দিয়া পানি নিমো, তারও টাকা নাই', কুড়িগ্রামে খরায় পুড়ছে মাঠ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২৮ জুলাই, ২০২১ ১০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মেশিন দিয়া পানি নিমো, তারও টাকা নাই', কুড়িগ্রামে খরায় পুড়ছে মাঠ

বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে চলে যাচ্ছে আমন রোপণ মৌসুম। বেড়ে যাচ্ছে চারার বয়স। উদ্বিগ্ন কৃষকদের অনেকেই তাই সেচযন্ত্র চালু করে আমন রোপণ শুরু করেছেন। চড়া রোদের কবল থেকে চারা বাঁচাতে অনেকেই দফায় দফায় সেচ দিয়ে যাচ্ছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।  

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র জানান, গত বছর জুলাই মাসে ৮৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল, অথচ এ বছর জুলাই মাস প্রায় শেষ। বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৮২ মিলিমিটার। বৃষ্টি না হওয়ায় একরের পর একর জমি পতিত পড়ে আছে। জন্মেছে আগাছা। তীব্র রোদে ফেটে যাচ্ছে জমি। এমন চিত্র জেলার সর্বত্র।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে চারা রোপণের কাজ শেষ করেছেন কৃষকরা। এর ৮০ শতাংশই সেচের সাহায্যে রোপণ করা। 

উলিপুর উপজেলার ছাট কাগজীপাড়া গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, প্রতি শতাংশ ৩০ টাকা হারে সেচ খরচ দিয়ে তিনি প্রায় এক একর জমিতে আমন চারা রোপণ করেছেন। বর্গাচাষি শামসুল হক জানান, চারার বয়স ৫০ দিন পেরিয়ে যাওয়ায় আর অপেক্ষা করতে পারছেন না, তাই ৫০ শতক জমিতে সেচ নিয়ে চারা লাগানোর কাজ করছেন। একই অবস্থা এই গ্রামের আব্দুস ছাত্তার, মিনহাজুলসহ অনেক কৃষকের। 

রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের মমিন গ্রামের কৃষক তারিক আলী, ইয়াছিন আলী ও সাইদুর রহমান জানান, সেচ দিয়ে চারা লাগানোর পরও তীব্র খরায় জমি ফেটে যাচ্ছে। তাই দফায় দফায় সেচ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ পড়ছে বেশি। সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামের ফারুক মিয়া, হারুন মিয়া, রজব আলী জানান, ৩০-৩৫ দিন বয়সী চারা লাগালে ফলন ভালো হয়। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে রোপণ বিলম্বিত হওয়ায় চারার বয়স ৪৫-৫০ দিন হয়ে গেছে। ছত্রাকে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা। তাই সেচ দিয়েই রোপণের কাজ সারছেন তারা।  

অপরদিকে অনাবৃষ্টির কারণে অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এদের একজন ছাট কাগজীপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম। তিনি জানান, চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন চারা কিনে রোপণ করা ছাড়া উপায় নেই। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়তি খরচে সেচ দেওয়ার সংগতি নেই যাদের, সেসব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি পড়েছেন বিপাকে। পান্ডুল ইউনিয়নের আপুয়ারখাতা গ্রামের অক্ষয় কুমার ও তার স্ত্রী তারা রানী নিচু জমি থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলে সেচ দিচ্ছেন বর্গা নেওয়া জমিতে। তিনি বলেন, দুদিন ধরে পানি সেচে অবশেষে স্বামী-স্ত্রী মিলে চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অক্ষয় বলেন, মেশিন দিয়া পানি নিমো, তারও টাকা নাই। এলা দুই মানুষ মিলি পানি সেচি। কাইল দুইজনে বেচন নাগামো।'
 
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, অনাবৃষ্টির কারণে অনেকেই আমন চারা রোপণ করতে পারছেন না। চারার বয়স বেড়ে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই কৃষকদের সম্পূরক সেচ দিয়ে চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা