kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

শ্রীপুরে পেট্রল ঢেলে দোকানে আগুন, দগ্ধ যুবকের মৃত্যু

দগ্ধ আরো দুজন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০১:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রীপুরে পেট্রল ঢেলে দোকানে আগুন, দগ্ধ যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পর পেট্রল ছুড়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই তরুণ।

হামলাকালে পেট্রল ছুড়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ আরো দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত ওই তরুণের নাম আরিফ হোসেন (২৬)। তিনি পাশের উদয়খালী গ্রামের জজ মিয়ার ছোট ছেলে। আগুনে তাঁর শরীরের প্রায় ৬০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার উপজেলার তেলিহাটী মোড় এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নেতৃত্ব দেন তেলিহাটী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন সরকার।

প্রকাশ্য ওই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হলেও মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নিহত আরিফের বড় ভাই মো. তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, ফের হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। বাইরে বের হলেই তুলে নিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। 

মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, তেলিহাটী মোড় এলাকায় তাঁদের তিনটি মুদি দোকান রয়েছে। একটি দোকান চালান তাঁর বড় ভাই উদয়খালী গ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  মোজাম্মেল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যুবদল নেতা তোফাজ্জল সরকার ওই দোকান থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনে ১২০ টাকা কম দেন। কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাঁর ভাইকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন তোফাজ্জল সরকার। ওই সময় দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে তোফাজ্জল সরকার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় ১৫ মিনিট পর তোফাজ্জল সরকারের নেতৃত্বে তাঁর বড় ভাই তাইজ উদ্দিন সরকার, ছোট ভাই মোফাজ্জল সরকারসহ সহযোগীদের নিয়ে মোজাম্মেলের দোকানে হামলা চালায়। ওই সময় দোকানের ভেতর মোজাম্মেলকে বেদম মারধর করে তারা। একপর্যায়ে মোজাম্মেলের মাথায় কোপ দেয়। মোজাম্মেলকে বাঁচাতে ছুটে গেলে তাঁর বাবা জজ মিয়া, ছোট ভাই সাখাওয়াত, আরিফ, সজিব ও বিয়াই রুবেলকেও বেদম মারধর করে তারা।

মো. তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে মুদি দোকানটি লুট করেন তোফাজ্জল সরকারসহ তাঁর সহযোগীরা। পরে তোফাজ্জল সরকার মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল বোতলে নিয়ে দোকানে ছুড়ে আগুন জ্বালিয়ে দেন। মোফাজ্জল সরকার একই কায়দায় তাঁর ছোট ভাই আরিফ, সজিব ও বিয়াই রুবেলকে লক্ষ্য করে পেট্রল ছুড়ে আগুন লাগিয়ে দেন। এতে তাঁরা তিনজনই দগ্ধ হন।

গুরুতর অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর আরিফকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে মারা যান আরিফ।

মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত তোফাজ্জল সরকারের বক্তব্য জানা যায়নি।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে তৎপর রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারব।’

মঙ্গলবার সরেজমিন তেলিহাটী মোড় এলাকায় গিয়ে জানা গেল, মোজাম্মেলসহ তাঁর ভাইয়েরা প্রত্যেকেই নিরীহ। তাঁদের মধ্যে নিহত আরিফ ছিলেন খুবই সহজ-সরল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই বাজারে ব্যবসা করে আসছেন।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায়, প্রকাশ্য হামলার পর তারা দোকান বন্ধ করে নিরাপদে সরে যায়। তারা জানায়, যুবদল নেতা তোফাজ্জল সরকার, তাঁর ভাই মোফাজ্জল সরকার ও তাইজ উদ্দিন সরকার এলাকায় খুবই প্রভাবশালী। তার মধ্যে মোফাজ্জল সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখলসহ এন্তার অভিযোগ রয়েছে।



সাতদিনের সেরা