kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাস্তা হয়েছে, বিদ্যুৎ এসেছে; ফিরেছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি   

২৬ জুলাই, ২০২১ ১৪:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাস্তা হয়েছে, বিদ্যুৎ এসেছে; ফিরেছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার পূর্বডামুড্যা ইউনিয়নের মঞ্জিল গ্রামের জহুরা বেগম। থাকতেন অন্যের জায়গায়, থাকার মত জায়গা ছিল না তার, এখন প্রধানমন্ত্রী ঘর দিয়েছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ ও রাস্তা না থাকার কারণে এখানে থাকেননি। এ জন্য আগের জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। এখন বিদ্যুৎ ও রাস্তা সবই আছে তাই চলে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের বাড়িতে।

আশ্রয় প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী মজিব শতবর্ষ উপলক্ষে অসহায়, দুস্থ ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে থাকার জন্য জায়গা ও ঘর বিতরণ করেন। এই ঘর নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী এক যোগে এই ঘরের উদ্বোধন করেন। যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬১ টি ঘর করেন। এই প্রকল্পের ২২ ঘর হয়েছে উপজেলা দায়মি চর ভয়রায়। এখানে বিদ্যুৎ ও রাস্তা নেই দোহাই দিয়ে অনেকেই ঘরে বুঝে নিয়েছেন কিন্তু আসেনি।

আশ্রয় প্রকল্প ভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে কোনোমতে খাবার জোগাড় করতে পারলেও থাকার ব্যবস্থা করা যেত না। ছিন্নমূল মানুষের মতো থাকতে হতো। কিন্তু, এখন একটা নির্দিষ্ট থাকার জায়গা আছে। আছে একটা ঠিকানা। রাস্তা হল এতে করে চলাচলে উপযোগী হয়েছে। রাতের অন্ধকার দূর করতে ঘরে এসেছে বিদ্যুতের আলো।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তা থেকেই বেশ কিছুটা দূরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। আগে সেই ঘরে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত অন্যের জায়গা বা বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা চাষাবাদের জমির ওপর দিয়ে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পের কাছে যেতে একটি রাস্তা নির্মাণ হয়েছে। বিদ্যুৎ ছিল না সেটিরও ব্যবস্থা হয়েছে। অনেক ঘরের সামনের জায়গায় চাষ করছেন বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। কেউ বা আবার নিজেই পালছেন হাঁস মুরগী। বাচ্চাদের কোলাহলে ভরে গেছে পুরো এলাকা। সবকটি ঘরে লোক এসে পড়েছে। যারা প্রথমে পেয়েছিল তাদের মধ্যে যারা আসেনি তাদেরকে বাতিল করে উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি যারা আবেদন করেছেন কিন্তু ঘর পাননি তাদের স্থান দিয়েছেন।

কথা হয় আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ভূমিহীন দরিদ্র বিধবা হাসিনা বেগম সাথে। তিনি বলেন, এই ঘরটি আমি আগে পেয়েছি কিন্তু রাস্তা আর বিদ্যুৎ ছিল না। পুরো এলাকাই ভূতুড়ে ছিল। আসার জন্য কোন রাস্তা ছিল না। এখান থেকে বাজারে যেতে অনেক কষ্ট হত। তাই এত দিন আসি নাই। আজ রাস্তা ও বিদ্যুৎ পেয়েছি এতেই আমি খুশি। এখন আর অন্য কোথাও যাব না এখানেই থাকবো।

আশ্রয় প্রকল্পের ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার একটা জম্মগত ভাবেই সমস্যা কোন কাজ করতে পারি না, আমি গরিব মানুষ এখানে গুচ্ছ গ্রাম হওয়ার প্রথম থেকেই  অনেক ধার দেনা করে দোকান দিয়েছি। আজকে ইউএনও স্যার প্রধানমন্ত্রীর উপহার ও স্যার নিজে আমাকে নগদ অর্থ দিয়েছেন, এখানে অনেক মানুষ আছে ভালোভাবে থাকতে পারবো। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের এই দুঃসময়ে সাহায্য করায়।

উপজেলা জেনারেল অফিসের এজিএম তৌফিকুর আলম বলেন, ‘ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাদিকুর সবুজ এর সহযোগিতায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় নেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীদের আনন্দঘন কোলাহল দেখে আমার নিজের কাছেই ভালো লাগছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে সারাদেশের ন্যায় ডামুড্যার দাইমি চরভয়রা গ্রামে ২২ টি ঘর ভূমিহীন ও গৃহহীনদের হাতে ইতোমধ্যে কবুলিয়ত, নামজারি খতিয়ান, গৃহ হস্তান্তরের সনদপত্র দেওয়া হয়েছে। উপকারভোগীদের বিদ্যুৎ, রাস্তা ও নলকূপের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে। কুরবানির ঈদে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ঈদের উপহার মাংস দেওয়া হয়েছে। আজকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপহার ও প্রত্যেক পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদান করছি।



সাতদিনের সেরা