kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

মাদারীপুরে শ্রমিকেৱ মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর, আটক ১

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:১০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাদারীপুরে শ্রমিকেৱ মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর, আটক ১

মাদারীপুরে শিপন মাতবর (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে জেলা সদর হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রিপন মাতবরকে (৩৮) আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। নিহত শিপন সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকার আলী মাতবরের ছেলে।

পুলিশ, হাসপাতাল, নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার খাগদীতে ইটবোঝাই একটি ট্রলি উল্টে গুরুতর আহত হয় নির্মাণ শ্রমিক শিপন। পরিবারের লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পরই শিপনের মৃত্যু হয়। এতে অক্সিজেন দিতে দেরি করার অভিযোগে হাসপাতালের দোতলায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় নিহতের স্বজনরা। এ সময় পুরুষ ওয়ার্ডের নার্সদের রুমের ভেতর ঢুকে টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

এছাড়াও হাসপাতালের জানালা, দুটি ইসিজি মেশিন, অক্সিজেন মেশিন ভাঙচুর করা হয়। এতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্য রোগীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিহতের বড় ভাইকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে সদর মডেল থানা পুলিশ। তবে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চিকিৎসকরা। 

ভর্তি হওয়া রোগীরা বলেন, হঠাৎ ৭-৮ জন লোক এসে নার্সের রুমের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করে। পরে দায়িত্বরত নার্সরা দরজা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে নিহতের ঘনিষ্টজন দরজা ভাঙচুর করে। 

মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিপন নামের রোগী আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তার স্বজনরা ফরিদপুর নিতে বিলম্ব করায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে নিহতের লোকজন হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। তার চিকিৎসার কোনো ত্রুটি ছিল না। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ সত্য নয়।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে হাসপাতাল ভাঙচুরের বিষয়টি জানতে পারি। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে নিহতের বড় ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা