kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

এবার লকডাউনেও ছিন্নমূলদের পাশে সেই ‘গরিবের রাজা’

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৫ জুলাই, ২০২১ ১৫:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার লকডাউনেও ছিন্নমূলদের পাশে সেই ‘গরিবের রাজা’

প্রতিবারের মতো এবারও সরকার ঘোষিত লকডাউনের পর বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার জংশন স্টেশনে বিপাকে পড়া ছিন্নমূল ও ভিক্ষুকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্যবসায়ী আজিজুল হক রাজা। 'স্টেশনের ছিন্নমূল মানুষকে খাইয়ে আনন্দ পান তিনি'- গত পয়লা মে এমন শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি এ প্রতিবেদককে বলেছিলেন প্রতিবার লকডাউনে বিপাকে পড়া এসব মানুষদের খাবার খাওয়ানো অব্যাহত রাখবেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তিনি এসব অভুক্তদের মুখে খাবার তুলে দিয়ে হাসি ফুটাচ্ছেন। সেই সঙ্গে ছিন্নমূল মানুষের মুখে নিয়মিত খাবার তুলে দেওয়ায় মানবিকতার বিষয়টি আরো ফুটে উঠেছে।

রাজা পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী হলেও দুস্থ, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের প্রতি তার এমন ভালোবাসা দেখে এলাকাবাসী এখন তাকে ‘গরিবের রাজা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন।

ছিন্নমূলদের খাবারদাতা আজিজুল হক রাজা জানান, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার গত বছর প্রথমবারের মতো লকডাউন ঘোষণা করলে সারা দেশের মতো সান্তাহারেও বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন, বাসসহ অন্য গণপরিবহনগুলো। জনশূন্য হয়ে পড়ে স্টেশন এলাকা। এরপর নিজ উদ্যোগে গত বছরের ২৪ মার্চ রাত থেকে রান্না করে স্টেশন এলাকার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ শুরু করেন। তবে দিন যত বাড়ছিল, ছিন্নমূলদের সংখ্যাও ততই বাড়ছিল। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসব ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রতিদিন তাকে তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা করতে হয়। করোনা মোকাবেলায় দ্বিতীয় দফায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে ফের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সেবারও তিনি এসব ছিন্নমূল মানুষকে খাইয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তৃতীয় দফার পর এবারও ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের লকডাউন শুরু হলেও বিপাকে পড়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। এবার তাকে প্রতিদিন দুবেলা খাবার দিতে হচ্ছে মাত্র ১০-১৫ জনকে।

তিনি আরো জানান, সমাজে অনেক বিত্তশালী মানুষ রয়েছে। কিন্তু কেউ তাদের খোঁজখবর নেয় না। ক্রান্তিকালে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ট্রেন চলাচল শুরু হওয়া পর্যন্ত খাবার খাওয়ানো অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।

এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন বলেন, লকডাউনে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ান রাজা। তার এই উদ্যোগ আসলেই মহৎ। রাজার মতো বিপাকে পড়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তশালীদের আহ্বান জানান।

উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজার মতো সমাজের অন্যদেরও এভাবে এগিয়ে আসা উচিত। তাহলে করোনা মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে ছিন্নমূলদের অন্তত ক্ষুধার জ্বালা মেটানো সম্ভব হবে।



সাতদিনের সেরা