kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

গাছচাপায় ভাঙছে খুদে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, চিঠি চালাচালিতেই দুই মাস পার

* ভেঙে পড়া গাছেই ঝুঁকি নিয়ে খেলা করছে ছোট শিশুরা * নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের টয়লেট, দেয়ালসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র * সন্ধ্যা নামলেই সেখানে বসে নেশার আসর

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৫ জুলাই, ২০২১ ১৫:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাছচাপায় ভাঙছে খুদে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, চিঠি চালাচালিতেই দুই মাস পার

দুই মাস আগে ঝড়ে বিরামপুর উপজেলার দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর ভেঙে পড়েছে বিশাল বড় একটি কৃষ্ণচূড়ার গাছ। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও গাছটি অপসারণের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয়ের টয়লেট, দেয়ালসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত গাছটি অপসারণ করা হবে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২২ সালে ৯১ শতক জমি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে । এটি এলাকার প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথমদিকে ছাদ দিয়ে নির্মাণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে ছাদের ঢালাই ভেঙে টিনশেড তৈরি করা হয়। উপজেলায় প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয় আধুনিকায়ন করা হলেও এই বিদ্যালয়ে কোনো কিছুই করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়টি এখন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গত দুই মাসেরও বেশি সময় আগে ঝড়ে কৃষ্ণচূড়ার গাছটি ভেঙে পড়ে। চিঠি চালাচালিতেই এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে শনিবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সামনে রয়েছে সুবিশাল একটি মাঠ। বিদ্যালয়টিতে ৪টি শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিসকক্ষ রয়েছে। বারান্দায় রাখা হয়েছে ভস্তাভর্তি আবর্জনা। ঠিক ভবনের সামনে সারিবদ্ধভাবে বেশ কয়েকটি গাছ লাগানো রয়েছে। অফিসকক্ষের পেছনে টয়লেট লাগোয়া একটি বিশাল আকৃতির কৃষ্ণচূড়ার গাছ পড়ে রয়েছে অফিসকক্ষের টিনের চালায়। সেটিও ভেঙে এখন মাটিতে পড়েছে। ভেঙে পড়া গাছের ডালে বসেই ওই এলাকার শিশুরা খেলাধুলা করছে। শুকিয়ে যাওয়ায় গাছের ডালে খেলা করাটাও বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিতে পারে। 
 
ওই এলাকার আবজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন আগে এক রাতের ঝড়ে গাছটি বিদ্যালয়ের ওপর ভেঙে পড়ে। বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় কোনো শিক্ষক খোঁজ নিতে আসেন না। অবহেলায় বিদ্যালয়ে বেশগুরুত্বপূর্ণ জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মরা গাছের ডালে এলাকার শিশুরা খেলাধুলা করে।

ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আজিজার রহমান কাজী বলেন, এই ইউনিয়নের প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি। শুরুতে সামনের দিকের গাছগুলো লাগানো হয়। টলয়লেটের লাগোয় কৃষ্ণচূড়ার বড় একটি গাছ ঝড়ে ভেঙে পড়ে। এতে ভবনের টিন, দেয়াল, টয়লেটসহ বেশ কিছু জিনিস নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ভেঙে পড়া গাছটি অপসারণ না করায় বেশ ঝুঁকিপূর্ণ মারণফাঁদ হিসেবে পড়ে রয়েছে। শুধু গাছ নয়, বিদ্যালয় ভবনটিরও এখন জীর্ণদশা। করোনার কারণে বন্ধ থাকায় সেটি এখন নেশাখোরদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাাম জানান, ঝড়ে উপড়ে যাওয়া গাছটি ভবনে ওপর ভেঙে পড়ায় বেশ ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে করোনায় বিদ্যালয়টি বন্ধ রয়েছে। গাছটি অপসারণের বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনারা বেগম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। গাছ টেন্ডার করতে বন বিভাগ মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এ ক্ষেত্রে তাদের ধীরগতির কারণে গাছটি অপসারণ করতে দেরি হচ্ছে। আশা করছি, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)পরিমল কুমার সরকার বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে গেলেই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা করছে। ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া গাছটি অপসারণ করার জন্য বন বিভাগকে অবগত করা হয়েছে। তারা মূল্য নির্ধারণ করে দিলেই গাছটি সরানোর কাজ শুরু হবে।



সাতদিনের সেরা