kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

জোয়ারের তোড়ে ধসে পড়ল রেস্ট হাউজ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৪ জুলাই, ২০২১ ১৯:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জোয়ারের তোড়ে ধসে পড়ল রেস্ট হাউজ

পূর্ণিমা তিথির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৪/৫ ফুট বেড়ে গেছে জোয়ারের পানি। শনিবার সকালে বেড়ে যাওয়া জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে কক্সবাজারের সাগর তীরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা। এ সময় জোয়ারের পানির তোড়ে কক্সবাজারের হিমছড়িতে কক্সবাজার জেলা পরিষদের 'মাধবি' নামের রেস্ট হাউজটি ধসে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে ধসে পড়েছে কক্সবাজার জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজটি। ভবনটি 'ঝুঁকিপূর্ণ' চিহ্নিত করে ২০১৭ সালে 'পরিত্যক্ত' ঘোষণা করেছিল জেলা পরিষদ। এরপর ভবনের আশপাশ থেকে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়া হয়।

উপকুলীয় ভাঙা বেড়িবাঁধের একাধিক পয়েন্ট দিয়েও সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। জোয়ারের পানির তোড়ে কক্সবাজার সাগর পাড়ের বিপুলসংখ্যক ঝাউবিথীও পানিতে তলিয়ে গেছে। বৈরী আবাহাওয়ার কারণে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের পানি ফুঁসে উঠে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে ঝাউবিথীতে। ফলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের অনেক গাছ ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট।

জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে কুতুবদিয়া দ্বীপের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাটিও। দ্বীপের আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবালেরচরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বেশকিছু পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়া জোয়ারে তলিয়ে গেছে লবণের মাঠসহ দ্বীপের ১০টি পাড়া। তলিয়ে যাওয়া বাড়িঘরের মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে বলে জানান কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরের জামান চৌধুরী। দ্বীপের এসব বাসাবাড়ির আনুমানিক ৩০ পরিবার টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুতুব আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

দ্বীপের আলী আকবার ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নরুচ্ছফা জানান, বিগত দুই মাস পূর্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে কাহারপাড়া, কাজিপাড়া, পন্ডিতপাড়া, তেলিপাড়া, হায়দারপাড়া, বায়ুবিদ্যুৎ এলাকা, পশ্চিম তাবলরচরসহ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ার লোকালয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এসব এলাকার লোকজন তারই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আগেই আবারও ওই ভাঙন এলাকা দিয়ে জোয়ার ঢুকে ঘরবাড়ি, ফসলি জমির চাষ, পুকুর, খাল বিল তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় অফিসের শাখা কর্মকর্তা (এসও) এলটন চাকমা জানান, গত ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে, এবারও পূর্ণিমার জোয়ারে ওই সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অবশ্য জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন বাঁধ মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।



সাতদিনের সেরা