kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকেছে লোকালয়ে

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৪ জুলাই, ২০২১ ১৮:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকেছে লোকালয়ে

একদিকে পূর্ণিমার তিথি অন্যদিকে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই দুয়ে মিলে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর নিম্নাঞ্চলসহ সংস্কারহীন ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে অরক্ষিত লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ণিমার তিথি শুরু আগেই লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার দুপুরের জোয়ারে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন, দক্ষিণ চরমোন্তাজ, নয়ারচর, চরআণ্ডা ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকেছে।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ছোবলে ওই পাঁচ এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। এ ছাড়া চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের বাঁধ অনেক আগ থেকেই ভেঙে আছে। এ বাঁধগুলো সংস্কার না করায় জোয়ারের পানি বাড়লেই লোকালয় প্লাবিত হয়ে পানিবন্ধি হয়ে পড়ে লোকজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, উপজেলার ১৪ কিলোমিটার ভাঙা বাঁধের আপদকালীন জরুরি ৩ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। তার মানে তাদের এ তথ্যই বলছে এখনও ১১ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার হয়নি।

কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা তালাশ হাওলাদার বলেন, কোড়ালিয়ার এটি কেউ বলে বাঁধ, কেউ বলে রাস্তা। তবে যাই হোক, এটি ভাঙা থাকায় জোয়ারের পানি বাড়লে কষ্টের কোনো শেষ থাকে না আমাদের। একটু জোয়ারের পানি বেশি হলেই এখানে পানি ঢোকে। আজকেও জোয়ারের পানি ঢুকছে।

দুর্গম চরমোন্তাজ থেকে আইয়ুব খান বলেন, ‘আজকে দুপুরে চরবেষ্টিন, দক্ষিণ চরমোন্তাজ ও নয়ারচরে জোয়ারের পানি ঢুকছে ভাঙা বাঁধগুলো দিয়ে। ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত না করায় এই পূর্ণিমায় কয়েকদিন ওইসব গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকবে। ভোগান্তিতে পড়বে মানুষ।

অরক্ষিত এলাকার মানুষের দাবি, একেকটি দুর্যোগ তাদের জীবন-জীবিকা থমকে দিয়ে যায়। এর প্রধান কারণ বাঁধ ভেঙে ও ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয় পানি ঢোকে। পূর্ণিমা ও লঘুচাপের প্রভাবে দুই-তিনদিন এরকম সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা তাদের। তাই ওইসব বাঁধ দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, নদী-সাগর ঘেরা রাঙ্গাবালীর ভাঙা কয়েকটি বাঁধ এর মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এখনও কয়েকটি এলাকার বাঁধ ভেঙে আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই সব বাঁধ পরিদর্শন করেছে। আশা করছি, খুব দ্রুত বাঁধগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।



সাতদিনের সেরা