kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

মির্জাপুরে বিধি-নিষেধ না মেনে নদীপাড়-সেতুতে বিনোদনপ্রেমীদের ঢল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৪ জুলাই, ২০২১ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুরে বিধি-নিষেধ না মেনে নদীপাড়-সেতুতে বিনোদনপ্রেমীদের ঢল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে স্থানীয় নদীর পাড়, সংলগ্ন সেতু ও সবুজাচ্ছাদিত জায়গায় ভিড় করছেন অনেক ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। এবারের পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে বিধি-নিষেধ। কিন্তু মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী রিসোর্ট, সদরের পাহাড়পুর ব্রিজ, বংশাই নদীর ত্রিমোহন, বুধিরপাড়া-চান্দুলিয়া নবনির্মিত সড়ক, মির্জাপুর রেল স্টেশন, ধেরুয়া রেল ক্রসিং ও জলকুটির, দেউলীপাড়া সেতু এবং নবনির্মিত খাটিয়ারঘাট-কালিয়াকৈর সড়কের কবিরকুড়ি জলকুটির ও ব্লকের স্থানে সময় কাটাতে ভিড় করছেন মানুষ। শত শত মানুষের উপস্থিতি দেখে মনে হয় করোনা নেই। নেই সরকারি বিধিনিষেধও।

ঈদ উপলক্ষে তাই বেশ সরগরম সেতু তিনটিসহ স্পটগুলো। এখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে আসা মানুষ সেতুপাড়ের বর্ষাস্নাত প্রকৃতি, মনোরম দৃশ্য এবং পাহাড়ি এলাকায় বিশাল চকের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নবনির্মিত সড়ক দেখে মুগ্ধ হন। অস্থায়ী বিনোদন কেন্দ্র হয়ে ওঠা এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ আসেন। তবে ঈদ উৎসবে এবার দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং পিকআপযোগে বিকেলে বিনোদন পিয়াসী মানুষ আসছেন। ঈদের দিন থেকে পুরো এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার সঙ্গেই বিনোদন পিয়াসী শত শত মানুষের পদচারণা এসব স্পটগুলো ঘিরে। ফলে সববয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে স্পটগুলো।

এক সময় মির্জাপুর উপজেলার সদরে দুটি, হাটুভাঙ্গা বাজারে একটি, পাকুল্যা বাজারে দুটি ও জামুর্কী বাজারে একটি সিনেমা হল ছিল। প্রতি বছর ঈদ ও দুর্গা পূজা ও অন্যান্য উৎসবে এসব সিনেমা হলগুলোতে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যেত। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে স্যাটেলাইট চ্যানেল চালু হওয়ার পর থেকে সিনেমা হলের সুদিন ফুরাতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে প্রায় এক যুগ আগে একে একে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে বড় উৎসবে মির্জাপুরে বিনোদন পিয়াসী মানুষ বিনোদন থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েন।

এদিকে মানুষের দাবি ও উপযোগিতা থাকলেও মির্জাপুরে সরকারি, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বা বেসরকারি উদ্যোগে কোনো বিনোদনকেন্দ্র বা পার্কের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে ব্রিজ ও সড়ক তৈরি হওয়ার পর মনের খোরাক মেটাতে বিনোদনপ্রেমীরা ধীরে ধীরে এখানে আসতে শুরু করে। এভাবেই পরিচিতি পেতে পেতে বর্তমানে রীতিমতো পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে এ এলাকা।

শুক্রবার বুধিরপাড়া এলাকায় দেখা মিললো যুবকদের কয়েকটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা। তারা জেনারেটরের সাহায্যে উচ্চস্বরে গান  বাজিয়ে নৌকায় নেচে-গেয়ে হৈ-হুল্লোড় ও আনন্দ করছেন। জানালেন, কোথাও বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধুরা নৌকা ভাড়া করে এই এলাকায় সময় কাটাতে এসেছেন।

তরফপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী রিসোর্ট নামক স্থানে আসা কয়েকজনের সাথে কথা হলে জানান, ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটু ঘুরতে বেরিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় গার্মেন্টে চাকরি করেন। দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন। পরিবার নিয়ে একটু বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছি। কি কারণে ছুটি পেয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে কারখানা বন্ধ দিয়েছেন। তাহলে এতো মানুষের ভিড়ে ঘুরতে এসেছেন জানতে চাইলে বলেন, গ্রামে তো তেমন করোনা রোগী নেই বলেই চলে যান।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে সবাইকে সচেতন হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। জনসমাগম এলাকার ওইসব স্পটে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা