kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

২০ শতাংশ জমি নিয়ে বিবাদ, সংঘর্ষে আহত ৭

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০৭:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০ শতাংশ জমি নিয়ে বিবাদ, সংঘর্ষে আহত ৭

হাসপাতালে আহতদের একজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার(২৩ জূলাই) সকালে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের ধামেরহাট বাজারের পাশে এ সংঘর্ষ ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামে ২০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে মৃত নওশের আলীর ছেলেদের সাথে একই গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলেদের বিবাদ চলছিল। শুক্রবার সকালে ওই জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন পরিজন বেগম (৩৫), চায়না বেগম (২৫), লাভলু মিয়া (৩৭), আজিজুল হক(২৭), আকতার হোসেন (৪১), আল আমিন (২১), মাইদুল ইসলাম (২৭)।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মাইদুল ও আল আমিনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়েছে।

আহত আজিজুল হক জানায়, মৃত নওশের আলীর ছেলেদের সাথে ২০ শতাংশ জমির একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। শুক্রবার দশটার দিকে নওশের আলীর ছেলেরা ওই জমি মাপতে এসে আমাদের বাড়ির বেড়া ভেঙে ফেলে। একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে লাভলু ও পরিজনের শরীর পুড়ে গেছে। এছাড়া গর্ভবতী চায়না বেগমকে তাঁরা এলোপাতাড়ি লাথি মারে।

মৃত নওশের আলীর ছেলে আব্দুল বরেক জানায়, দলিল মূলে আমরা ওই জমির মালিক। শুক্রবার আমরা জমির সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে আমজাদ আলীর ছেলেরা আমাদের উপর হামলা করে। এতে আকতার, মাইদুল, আল আমিন ও আমি নিজে আহত হই। তাদের অভিযোগ আমজাদ আলীর ছেলেরা নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের ফাঁসানো চেষ্টা করছে।

স্হানীয়রা আরো জানিয়েছে, যে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ওই জমির মধ্যে ৮ শতাংশ জমি সরকারের খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে উভয় পক্ষই জমি খাসে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল হক শাহীন শিকদার সংঘর্ষের ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই জমি নিয়ে ইতোপূর্বে দু'বার গ্রাম্য শালিস হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাঁর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন‍্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি সেবা বিভাগে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে বিস্তারিত জেনে আসা হয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। আভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



সাতদিনের সেরা