kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

'শেখ হাসিনা যেন অনেকদিন বাইচা থাহে'

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৩ জুলাই, ২০২১ ১৮:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'শেখ হাসিনা যেন অনেকদিন বাইচা থাহে'

‘মোগো কিচ্ছু নাই, মানষের জায়গায় থাকতাম। মোগো খুইজ্জা ইউএনও স্যার নাম নিছে। আর স্যারে কইছে মোগো দ্যাশের প্রধানমন্ত্রী শেখের বেটি শেখ হাসিনা একখান উপহারের ঘর দিবে। আইজ হেই ঘরে উঠছি। মোরা এই পাকা ঘরে থাকতে পারমু হ্যা স্বপ্নেও ভাবিনাই। হাসিনার এই উপকার মোরা জম্মেও ভুলমু না। দোয়া হরি হাসিনা যেন অনেকদিন বাইচা থাহে’। 

আজ শুক্রবার দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল বরগুনার বামনা উপজেলার উপকারভোগীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার পর উচ্ছ্বসিত গলায় এমন কথাগুলো বলেন দিনমজুর নিবারণ দাসের স্ত্রী আলো রানী।

শুধু আলো রানী নন। দক্ষিণ রামনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া ঘরের চাবি হাতে পেয়ে কহিনুর বেগম, রাজিয়া, রাজ্জাক, কামাল হোসেন, বাবুল মল্লিকরা সবার মুখে ছিল খুশি ছটা। আজ থেকে তারা এই ঘরগুলোর মালিক।

অনেক স্বপ্নপ্রবণ চোখে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে কহিনুর বেগম জানান, স্বামী আর সন্তানদের নিয়ে কোনো মতে বাঁধের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন তিনি। বহু বছর বৃষ্টিতে ভিজেছে তার স্বপ্ন। বহু রাত নির্ঘুম কেটেছে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার অপেক্ষায়। কোনো দিন ভাবতেও পারেননি তারা একটি পাকা ঘরে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘর উপহার দেবেন। আজ তারা সেই ঘরের চাবি নিজেদের হাতে পেয়ে খুশিতে কেঁদে ফেলেছেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে বামনা উপজেলার দক্ষিণ রামনা গ্রামে নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮টি ঘরের চাবি উপকারভোগীদের মাঝে তুলে দেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার, ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দার প্রমুখ।

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১৭টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর পরে দ্বিতীয় ধাপে আরো ৩৯টি ঘর বর্তমানে নির্মাণাধীন। যার প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা করে। এ উপজেলার বামনা সদরে ২টি, রামনা ইউনিয়নে ১৬টি ও বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে ৩৮টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার ১৭টি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে বাকিগুলো বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। 

ঘরগুলোর চাবি তুলে দেওয়ার পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, বামনা উপজেলার এই ৮টি ঘর আমি দেখলাম অত্যন্ত ভালো মানের কাজ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ও মানবিক প্রকল্প এটি। যারা আজ ঘরগুলো পেয়েছেন তাদের যে আনন্দ দেখলাম এটাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফলতা। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতো মহৎ উদ্যোগ বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রের নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই এটা সম্ভব হয়েছে। 



সাতদিনের সেরা