kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

'কোরবানির ঈদি গোস্ত কিনা লাগে না, ওরা বাড়ি গোস্ত দিয়ে যায়'

বেনাপোল প্রতিনিধি    

২২ জুলাই, ২০২১ ১০:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'কোরবানির ঈদি গোস্ত কিনা লাগে না, ওরা বাড়ি গোস্ত দিয়ে যায়'

কোরবানির দিন দুপুরের পর থেকে গ্রামগঞ্জে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, সবারই চোখ জুড়ায়। কোরবানিদাতার বাড়ির দরজায় একদল মানুষের ভিড় হয়। কোরবানির মাংস সংগ্রহের জন্য তারা দলে দলে মানুষের দুয়ারে গিয়ে 'লিল্লা'র জন্য মাংস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত থাকেন। এই লিল্লার মাংস ভিক্ষুক, গরিব, কর্মজীবী, যাদের নিজের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই তাদের মাঝে বণ্টন করা হয়। 

সেই রকম দৃশ্য দেখা গেল যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সামটা গ্রামে। যারা কোরবানি দিতে পারেন না, তাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন এই গ্রামের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা।

বুধবার ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানির পর বিকেল থেকে মাংস ভাগাভাগি শুরু হয় এ গ্রামে। এই সামাজিক কোরবানির মাংস প্রস্তুত ও বিতরণকাজ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই কোরবানির এই মাংস যাতে গ্রামের প্রতিটি ঘরে পৌঁছায় সে জন্য তিন ভাগের এক ভাগ মাংস (লিল্লার অংশ) মহল্লার নির্দিষ্ট স্থানে জমা করা হয়। তারপর এই মাংস ভোক্তাদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়।

সামটা ইবতেদায়ি মাদরাসা মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফারুক হাসান জানান, সামটা গ্রামে যারা পশু কোরবানি দেন তারা প্রতিটি পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ জমা দেন এই সামাজিক ভাগ-বণ্টনে। কেউ এই নিয়মের ব্যতিক্রম করলে তাকে সমাজের কাছে জবাবদিহির ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রামে যারা কোরবানি করেননি তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। এই সমাজভুক্ত প্রত্যেকের বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে একেকটি ইউনিট ধরে তালিকা তৈরি করা হয়। এবার জমাকৃত মোট মাংস ওজন দিয়ে তাকে ইউনিট দিয়ে ভাগ করে পরিবার প্রতি মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়। আগে স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকিং করে আওতাভুক্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের ডেকে এনে মাংস বিতরণ করা হতো। 

মাংস বণ্টনকারী ইয়াকুব আলী সরদার বলেন, কোরবানির মাংস আমরা সবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিই। তবে গরিব-দুস্থদের অনেকে এসেও নিয়ে যায়। লোকলজ্জায় অনেকে কোরবানি না দিলেও মাংস নিতে আসতে পারেন না। মাংস যাতে সবাই পায় তাই এ ব্যবস্থা।

এবারের কোরবানি ঈদে সামটা পশ্চিমপাড়ায় ৮৫০টি পরিবারের মাঝে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। মাথাপিছু ৫৮০ গ্রাম করে মাংস দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের বাড়ির লোকসংখ্যা তিনজন বা এর কম, তাদের মোট দুই কেজি মাংস দেওয়া হয়েছে। 

গ্রামের আজগার আলী বলেন, 'গরিব হয়ে জন্মাইছি, তাই কোরবানি দিতি পারিনে। আল্লা যাদের তাওফিক দিছে তারা কোরবানি দেয়। রোজার ঈদি অল্পআদ্রেগ গোস্ত কিনি। তবে কোরবানির ঈদি আমাগের গোশত কিনা লাগে না। ওরা বাড়ি গোস্ত দিয়ে যায়।

সামটা গ্রামের ইস্রাফিল ড্রাইভার বলেন, আগে মাইকিং করে বলে দিত কখন লিল্লার গোস্ত নিতি আসতি হবে। এখন প্রতি বছর কোরবানির পর বাড়ি গোশত দিয়ে যায়। তাই দিয়ে ছেলেপিলেদের খাওয়াই, নিজেরাও খাই। 



সাতদিনের সেরা