kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

বরিশালের পোর্টরোডে জমজমাট কোরবানির মাংসের হাট

বরিশাল অফিস    

২২ জুলাই, ২০২১ ১০:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশালের পোর্টরোডে জমজমাট কোরবানির মাংসের হাট

নগরীর পোর্টরোডে রয়েছে বরিশালের বৃহত্তর পাইকারি মাছের বাজার। যেখানে সকাল থেকে গভীররাত অবদি থাকে মানুষের ভিড়। সেই বাজারে গতকাল মাছ ক্রয়-বিক্রয় তেমন একটা না হলে জমে উঠেছিল কোরবানির মাংসের হাট। দুপুরের পর থেকে মধ্যরাত অবদি বেচা-কেনা হয়েছে পেশাদার ও মৌসুমি কসাইদের এবং সারা দিন বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মাংস সংগ্রহকারীদের গরু ও খাসির মাংস। 

শুধু নগরীর পোর্টরোডে নয়, নগরীর সাগরদী চৌমাথা, সাগরদী বাজার, নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ বাজার, কাশিপুর বাজার, রুপাতলী বাজার, চকের পোলসহ নগরীর বিভিন্ন বাজারের রাসত্মার পাশে বসেছিল এই মাংসের হাট। এসব হাটে মানভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গরু ও খাসির মাংস। তুলানামূলক কম টাকায় এসব বাজারে মাংস বেচা-কেনা করে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই খুশি।

তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পেশাদার ও মৌসুমি কসাইরা পশু কোরবানি ও মাংস কাটার কাজ করে বিভিন্ন জায়গা থেকে এবং শ্রমজীবী মানুষ সারাদিন বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মাংস সংগ্রহ করে থাকেন। তারা তাদের পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী মাংস রেখে বাকি মাংস বিক্রির জন্য ওই সকল হাটে নিয়ে যান। যারা কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই কিংবা নিয়মিত মাংস কিনে খেতে পারেন না, তারাই কিছুটা কম দামে এই হাট থেকে গরুর-খাসির মাংস কেনেন। 

পোর্টরোডে কোরবানির মাংস বিক্রেতা মো. সবুজ মিয়া বলেন, কোরবানীর দিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চারটি কোরবানির গরু মাংস কাটার কাজ করেছি। সেখান থেকে বেশ কিছু মাংস পাওয়া গেছে। বাসায় খাওয়ার জন্য প্রয়োজনী মাংস রেখে বাদ বাকিটা পোর্টরোডে বিক্রি করতে এসেছি। এখানে একেবারে সলিড (হাড্ডিবিহীন) মাংস প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দামে বিক্রি করেছি। আর হাড়মিশ্রিত মাংস তিন থেকে চারশত টাকায় বিক্রি হয়। 

আরেক বিক্রেতা নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি দিনমজুরের কাজ করি। আজ কোরবানির দিন কোনো কাজ না থাকায় নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে মাংস চেয়ে এনেছি। কিছু মাংস বাসায় খাওয়ার জন্য রেখে বাকিটা সাড়ে তিনশত টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এক হাজার চারশত টাকা পেয়েছি। 

রসুলপুর এলাকার স্বল্প আয়ের বাসিন্দা সামসুল হক বলেন, আমার কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আবার মানুষের কাছে চাইয়াও আনতে পারি না। অন্যদিকে বাজারে দোকনগুলো দিয়ে মাংস কেনার আর্থিক অবস্থাও নেই। তাই এখান থেকে কম দামে তিন থেকে চার কেজি মাসং কিনতে এসেছি।  

রিকশাচালক আব্দুল হক বলেন, কয়েক দিন ধরে ছেলে-মেয়েরা মাংস খাওয়া বায়না করছিল। দোকানে  মাংসের দাম বেশি হওয়ায় কিনে দিতে পারিনি। তাই এখানে মাংস কিনতে এসেছি।

চকের পুল এলাকার এক মাংস বিক্রেতা জানান, শুধু নিম্ন আয়ের মানুষই এই দিনে আমাদের কাছ থেকে মাসং সংগ্রহ করে না। নগরীর নামি-দামি অনেক হোটেল রেস্তরাঁর মালিকরাও কমদামে মাংস কিনে মজুদ করেন হোটেলে বিক্রির জন্য।



সাতদিনের সেরা