kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার চাল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা ব্যর্থ

নীলফমারী প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০২১ ২৩:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার চাল কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা ব্যর্থ

করোনাকালে কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার চাল কালবাজারে বিক্রির চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। নিরুপায় হয়ে মজুদ করা ১ হাজার ৭৫০ কেজি চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্য হন ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনাটি আজে মঙ্গলবার (২০ জুলাই) বিকালে নীলফামারী জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, করোনাকালে কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ ইউনিয়নটিতে শুরু হয় গত রবিবার থেকে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সে চাল বিতরণ শেষ বলে ঘোষণা দেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা। এ ঘোষণার পরও পরিষদের গুদামে চাল মজুদ দেখতে পায় এলাকার লোকজন। ওই চাল জেলা সদর থেকে ব্যবসায়ী ঢেকে এনে বিক্রির জন্য দরদাম শুরু করলে ঘটনা ফাঁস হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন গুদাম ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান নিলে ব্যর্থ হয় ওই চেষ্টা। অবশেষে নিরুপায় হয়ে দুঃস্থদের তালিকা করে এলাকাবাসীর উপস্থিতে ওই চাল তিরণ করতে বাধ্য হন ইউপি চেয়ারম্যান।

ওই ইউনিয়নের চকদুবুলিয়া গ্রামের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের দরিদ্র পরিবারের বাবলী নামে এক নারী বলেন, ‘পরিষদোৎ চাউল দিলেক মেম্বর-চেয়ারম্যান, হামেরা পাইনো না। ওমরা কইল চাউল দেওয়া শ্যাষ, এরপরোতও দেখেছি মেল্যা চাউলের বস্তা। 
পাইকারের সঙ্গে দরদাম শুরু করিল চাউল বেচেবার জন্য। সেইলা জানির পারি এলাকার মাইনষিল্যা আসি ঘিরি ধরিনো। শ্যাষোৎ বেচের নাপারিয়া নয়াকরি গরীর মাইনষির লিষ্টি করি বিতরণ করি দিলেক।’ একই কথা বলেন ওই গ্রামের মর্জিনা বেগম, রোকেয়া বেগম, আফিয়া বেগমসহ অনেকে। তারা দরিদ্র পরিবারের হলেও ইউপি চেয়ারম্যানের চাল বিতরণের তালিকায় নাম ছিল না তাদের। অবশেষে উদ্বৃত্ত থেকে তারা সকলে পান ১০ কেজি করে চাল।

সোনারায় ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দীনেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চাল বিতরণ শেষ ঘোষণা হওয়ার পরও গুদামে চাল মজুদ দেখে সন্দেহ হয় এলাকার মানুষের। জেলা শহর থেকে এক চাল ব্যবসায়ী ইউনিয়ন পরিষদে আসতে দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। শেষে সেখানে অবস্থানরত লোকজনের দাবির মুখে ওই চাল দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্য হন ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।’

মঙ্গলবার বিকালে ওই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় বাইরে লোকজনের সমাগম। পরিষদের গুদামে রক্ষিত ৫০ কেজি ওজনের ৩৫ বস্তা চাল। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ইউনিয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তার ১০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

এসময় সেখানে উপস্থিত পাওয়া যায় পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম বুলুকে। বিতরণ শেষ হওয়ার পর চাল কেন গুদামে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘এর  সঠিক জবাব চেয়ারম্যান দিতে পারবেন। আমি এব্যাপারে কিছুই বলতে পারব না।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই বিতরণ কার্যক্রমের ট্যাগ অফিসার ছিলেন উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউল গণি ওসমানী। এসময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে তার দায়িত্ব নিয়ে সেখানে উপস্থিত পঞ্চপুকুর দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্যার বিকালে আমাকে দায়িত্ব দিয়ে ছুটিতে গেছেন। উদ্বৃত্ত এক হাজার ৭৫০ কেজি চাল বিতরণ না হওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ করতে মানা করেছেন। আমি সে কারণে এখানে আছি। কেন চাল অতিরিক্ত হলো তা স্যারই বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আউল গণি ওসমানী মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি গতকাল (সোমবার) ওই ৩৫ বস্তা চাল গুদামে রেখে এসেছি। সঠিক মানুষের কাছে চাল বিতরণ যাতে হয়, তা দেখভালের জন্য আমার বিশ্বস্ত এক শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছি।’

কালোবাজারে চাল বিক্রির চেষ্টা এবং চাপের মুখে তা বিতরণের বিষয়টি অস্বীকার করে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমার পাঁচটি ওয়াডের কার্ড ধারীরা চাল নিতে আসেননি, তাই ১৭৫ জন লোকের চাল বেচে যায়। তারা না আসায় নতুন করে তালিকা করে বিতরণ করা হচ্ছে।’ তালিকাভুক্তরা কেন চাল নিতে এলেন না, এর সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি তার কাছে। 



সাতদিনের সেরা