kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

'বাকি জীবনটা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে শান্তিতে কাটাতে পারব'

নেত্রকোনা ও পূর্বধলা প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০২১ ১৫:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'বাকি জীবনটা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে শান্তিতে কাটাতে পারব'

শ্মশানে নয়, খাস জমিতেই নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারায়ণডহর গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গত রবিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব ঘরে বসবাস শুরু করেছেন বরাদ্দ পাওয়া গৃহহীন পরিবারগুলো। বিদ্যুৎ ও পানি সুবিধাসহ পাকা ঘর পেয়ে তারা খুশি।

সম্প্রতি একটি পক্ষ অভিযোগ তোলে শ্মশানের জায়গায় নারায়ণডহর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মাণ ও নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এতে আশ্রয়ণে সুবিধাভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার প্রকল্প পরিদর্শনে যান নেত্রকোনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জিয়া আহমেদ সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনির হোসেন জীবন। এ সময় তারা জনপ্রতিনিধি, আশ্রয়ণের বাসিন্দা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাননি। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তারা।

নারায়ণডহর আশ্রয়ণে ঘর পাওয়া নার্গিস খাতুন, হালেমা খাতুন, জরিনা খাতুন মিয়া বলেন, এত দিন তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। অন্যের বাড়িতে থাকতেন। এখন তারা পাকা ঘরের মালিক। বাকি জীবনটা তারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে শান্তিতে কাটাতে পারবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের নাটেরকোনা গ্রামে ৯টি, খলিশাউড়া ইউনিয়নের ইচুলিয়া গ্রামে ৭টি, ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের ঘাগড়াপাড়া গ্রামে ৭টি, সদর ইউনিয়নের ছোছাউড়া গ্রামে ১৭টি, বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা গ্রামে ১২টি, নারান্দিয়া ইউনিয়নের খসখসিয়া গ্রামে ১টি, ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সদর ইউনিয়নের নারায়ণডহর গ্রামে ১২টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ভূমি ও গৃহহীনদের কাছে ইতিমধ্যে ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে সদর ইউনিয়নের নারায়ণডহর গ্রামে ১টি, ছোছাউড়া গ্রামে ২টি ও ঘাগড়া ইউনিয়নে ০৫টি ঘরের নির্মাণকাজ চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম বলেন, নির্ধারিত বরাদ্দ দিয়ে যথাযথ মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি প্রকল্পের বাসিন্দাদের সার্বক্ষণিত খোঁজখবর রাখছি। তাদের যেকোনো সংকটে আমরা সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।

নেত্রকোনা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জিয়া আহমেদ সুমন বলেন, প্রতিটি আশ্রয়ণ প্রকল্পই সরকারি খাসজমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। একটি পক্ষ শ্মশানের জায়গায় নারায়ণডহর আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের অভিযোগ তুললে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া কাজের মানও সন্তোষজনক।

পূর্বধলা উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নন্দিত উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি কুচক্রী মহল পাঁয়তারা করছে। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা তৎপর। আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা