kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

জাসদ নেতা কবিরের ঘাতকদের ফাঁসি দেখে যেতে চান বৃদ্ধা মা

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি   

২০ জুলাই, ২০২১ ০১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাসদ নেতা কবিরের ঘাতকদের ফাঁসি দেখে যেতে চান বৃদ্ধা মা

বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের নির্মম হত্যার অষ্টম বার্ষিকী সোমবার। ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই জাসদ নেতা রোজাদার সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে ধারালো অস্ত্র, ইট ও হাতুড়ি দিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে, অণ্ডকোষ থেঁতলে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় তৎকালীন দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৪ জন সুনির্দিষ্ট ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে নিহত কবিরের ভাই সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনূর বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর এ হত্যা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাখার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সঞ্জিত চন্দ্র শীল বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে বরিশাল জেলা যুগ্ম জজ আদালতে বিচারাধীন।

ওই মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান অসামি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু সদ্য অনুষ্ঠিত চাখার ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৩ জুলাই শপথ নিয়েছেন। ১৫ জুলাই তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে হত্যা মামলার বাদী সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনূর বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

মামলার আরেক আসামি জিয়াউল হক মিন্টু গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বানারীপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী হওয়ায় তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে জীবন সায়াহ্নে দাঁড়ানো তার অশীতিপর বৃদ্ধা মা ফিরোজা বেগম নাড়িছেঁড়া ধন প্রাণপ্রিয় ছেলের ঘাতকদের ফাঁসি কার্যকর দেখে মরতে চান। গত ৮ বছর ধরে নিহত ছেলের জন্য তার চোখে অশ্রুর নদী।

এদিকে চার্জশিটভুক্ত আসামি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে নৌকার টিকিট দেওয়ায় শুরু থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাসদে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। টুকুসহ ওই হত্যা মামলার সব আসামির ফাঁসির দাবিতে মামলার বাদী সৈয়দ তরিকুল ইসলাম আপনূর এবং তার অশীতিপর বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনসহ জাসদ নেতাকর্মীরা বানারীপাড়া পৌর শহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং বরিশালে টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন। তখন বানারীপাড়া, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় আসামিদের ছবির গলায় ফাঁসির দড়ি দেওয়া পোস্টার সাঁটানো হয়। এ ছাড়া ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।



সাতদিনের সেরা