kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

শ্রীপুর থেকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রমিকদের টিকাদান শুরু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

১৯ জুলাই, ২০২১ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীপুর থেকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রমিকদের টিকাদান শুরু

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শ্রমিক মাজহারুল ইসলামের বয়স ২৬ বছর। প্রতিদিনের মতো আজ কর্মস্থল আসার পর তাঁর শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করেন চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও কারখানা থেকে দেওয়া পরিচয়পত্র দেখে তাঁকে তাৎক্ষণিক করোনার প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়।

টিকা দেওয়ার প্রায় ঘণ্টা খানেক পর কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, বয়স কম হওয়ায় এর আগে টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধনই করতে পারেননি। এখন টিকা পেয়ে বেশ স্বস্তিবোধ করছেন। টিকা দেওয়ার আগে অনেকে অনেক কথা বললেও তাঁর শারীরিক কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

শুধু মাজহারুল ইসলামই নন, আজ ওই কারখানার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শ্রমিকককে দেওয়া হয় করোনার প্রতিষেধক টিকা।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সিটি কর্পোরেশনের বাইরে উপজেলা পর্যায়ে নিবন্ধন ছাড়াই শ্রমিকদের পরিচয়পত্র দেখে তাৎক্ষণিক টিকাদান শ্রীপুর থেকে শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল কারখানায় শ্রমিকদের একইভাবে এ টিকা দেওয়া হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এর আগে রবিবার গাজীপুর নগরীর কোনাবাড়ী এলাকার একটি ও লক্ষ্মীপুরা এলাকার দুইটি ও ভোগরায় একটি কারখানায় নিববন্ধন ছাড়া শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক টিকাদান শুরু হয়।

শ্রীপুর উপজেলায় নিবন্ধন ছাড়া পোশাকশ্রমিকদের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুরের ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শ্রমিকদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, এই করোনা দুর্যোগে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পক্ষে যা সম্ভব হয়নি, দেশের অর্থনীতি গতিশীল রেখে তা করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। আর তা শুধুই সম্ভব হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বের ফলে।

তিনি বলেন, করোনাযুদ্ধে দেশের মানুষের ফিকে হওয়া হাসি আবার মুখে ফেরানোর পাশাপাশি মজবুত অর্থনীতিতে চোখ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ১০ হাজার মাস্ক প্রদান করেন তিনি।

এ সময় ইকবাল হোসেন সবুজ অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ায় জামালপুরের একজন বয়স্ক করোনা রোগীর মৃত্যুর ঘটনা জানিয়ে বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে মর্মস্পর্শী খবরটি দেখে কষ্ট পেয়েছি। আমি তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও  পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানিয়ে দিয়েছি, শ্রীপুরের একজন করোনা রোগীরও যেন অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু না হয়। 

অনুষ্ঠানে ইকবাল হোসেন সবুজ ঘোষণা করেন, আমার নির্বাচনী এলাকার সকল মানুষের স্বজন আমি। করোনা সংক্রমণ যত দিনই থাকুক, কোনো করোনা রোগীই চিকিৎসা বঞ্চিত হবেন না। অক্সিজেন সিলিন্ডার, অ্যাম্বুলেন্সসহ যা প্রয়োজন আমি ব্যবস্থা করব।



সাতদিনের সেরা