kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসকদের মারধর, ভাঙচুর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৯ জুলাই, ২০২১ ১৮:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসকদের মারধর, ভাঙচুর

গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই চিকিৎসককে মারপিট ও হাসপাতালে ভাঙচুর করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ৩ ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ রাখে চিকিৎসকরা।   

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিকেল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. সুজন পাল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার বোয়ালি গ্রামের জাহেদা বেগম (৫৫) নামে এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে জাহেদা বেগমের ছেলে জাহিদ মিয়া ও তার অপর এক আত্মীয় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা জরুরি বিভাগের চেয়ার-টেবিল ও জানালা ভাঙচুর করাসহ চিকিৎসককে গালাগালি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ডা. সুজন পালকে মারধর করেন। এসময় নুরে জান্নাত নামে অপর এক চিকিৎসক এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। 

পরে খবর পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. তাহেরা আকতার মনি বাদী হয়ে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, রবিবার  সন্ধ্যায় ১০-১২ জনের একটি দল জরুরি বিভাগের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। চিকিৎসক সুজন পাল ও নুরে জান্নাতকে মারধর করা হয়। তারা নুরে জান্নাতকে শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।  

হামলার শিকার চিকিৎসক ডা. সুজন পাল জানান, ওই রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাকে মৃত ঘোষণার পরই রোগীর স্বজনরা অতর্কিতে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকরা সেবা দিচ্ছেন। সেই সময় এই লাঞ্ছনা তাদের মানসিকভাবে আহত করেছে।

এ ব্যাপারে মৃত জাহেদা বেগমের ছেলে জাহিদ মিয়া অভিযোগ করেন, রবিবার দুপুরের পর তার মাকে নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। তারা সেখান থেকে জাহেদা বেগমকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মায়ের ইলেক্ট্রোলাইটসহ তিনটি টেস্ট করাতে বলেন। এ সময় হাসপাতালের ল্যাব বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে টেস্টগুলো করে আনা হয়। টেস্ট করার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে ভর্তি না করে রক্ত দিতে বলেন। এভাবে চিকিৎসার অবহেলায় তার মা মারা যায় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আরএমও ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাসপাতালে একজন রোগীর স্বজন ও কিছু বহিররাগত ভাঙচুর করেছে। তবে সাধারণ রোগীদের কথা বিবেচনা করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়।  

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. মাহফুজার রহমান বলেন, হাসপাতালের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা