kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

খুবিতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০২১ ২২:১২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খুবিতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) স্নাতক পর্যায়ের সকল বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা বিষয়ক একাডেমিক ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ডিনবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই ক্যালেন্ডারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুবিতে স্নাতক সকল বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১৭ অক্টোবর, যা নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখ অবধি চলবে। প্রথম সেমিস্টারের প্রথম দফার রিভিউ ক্লাসগুলো পহেলা আগস্টে শুরু হয়ে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত নেওয়া হবে। এরপরে অনলাইনে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ চলবে ১৬ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট তারিখ অবধি। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা বিষয়ক মডেল টেস্ট নেওয়া হবে। দ্বিতীয় দফার রিভিউ ক্লাস ৭ সেপ্টেম্বর আরম্ভ হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিএল) ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ৬ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত আখেরি চাহার সোম্বা ও শারদীয় দূর্গা পূজার ছুটি থাকবে। 

এদিকে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার একাডেমিক ক্যালেন্ডারে দীর্ঘসূত্রিতা থাকায় তা নিয়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। সবচাইতে বেশি অসন্তোষ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তারা বলছেন, স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছরের মধ্যে ২টি সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা করে প্রশাসনের আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা উচিত। এ বছরের মধ্যে স্নাতক শেষ করতে না পারলে তারা সরকারি বেসরকারি অনেক চাকরির পরীক্ষাতেই আবেদন করতে পারছেন না। যারা উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে চান তারাও আগামী বছর  আবেদনের সকল সেশন মিস করবেন। এক্ষেত্রে তাদের অতিরিক্ত আরো দেড় বছর শিক্ষা গ্যাপ বাড়বে। এই ক্যালেন্ডার মাফিক পরীক্ষা চললে এ বছরও তাদের স্নাতক সম্পন্ন হবে না, এই ভেবেই তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

শিক্ষাথীদের দাবি, অন্তত মডেল টেস্ট এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোর জন্য আলাদা করে ২১ দিন বরাদ্দ রাখার কোনো প্রয়োজন ছিল না; এগুলো রিভিউ ক্লাসের পাশাপাশি সমানতালেই চলতে পারত। এতে করে পূজার ছুটির আগেই হয়তো পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া যেতো। এ ছাড়া চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ৪৫ দিন সময় ধরা হয়েছে। অথচ করোনা পূর্ববর্তী সময়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা এক মাসের মধ্যেই শেষ করা হতো। এভাবে পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটিতে অহেতুক দীর্ঘসূত্রিতা না করলে চলতি বছরের মধ্যেই ২ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া যেত। তাছাড়া, দুই দফায় রিভিউ ক্লাস নিয়ে একবারে রিভিউ ক্লাস নিয়ে নিলে শিক্ষার্থীদের জন্য সেটা আরো বেশি ফলপ্রসূ হতো।

ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের রুবিয়া খাতুন বলেন, আমরা সবাই কম বেশি মোবাইল ও ল্যাপটপ চালিয়ে অভ্যস্ত। তাই পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা করে ২১ দিন সময়ের প্রয়োজন নেই। এগুলা রিভিউ ক্লাসের পাশাপাশিই চলতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনে রিভিউ ক্লাস ও সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে হলেও এই বছরের মধ্যেই দুই সেমিস্টার শেষ করার দাবি জানাচ্ছি। 

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দাবি, ইতোমধ্যেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সহপাঠীদের স্নাতক শেষ হয়ে গিয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তারা আশা করেছিলেন, প্রশাসন তাদের বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে ভাববে। এই পরিস্থিতিতে আরো দেরি করে অক্টোবরের মাঝামাঝি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হলে তাদেরকে আরো বড় সেশনজটের সম্মুখীন হয়ে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়তে হবে।

অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব চৌধুরি বলেন, ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত আশা করেছিলাম। এ সময় তিনি সদ্য পাশ হওয়া একাডেমিক ক্যালেন্ডার সংশোধন করে এ বছরের মধ্যেই চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুই সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে ২য় ও ৩য় বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও পরীক্ষার সময়সুচি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী বিধান রুদ্র পাল বলেন, শারদীয় দুর্গা পূজা আমাদের সবচাইতে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বিজয়া দশমীর এক দিন পর যদি পরীক্ষা হয় তাহলে অনেক ছাত্রছাত্রী তাদের বাড়ির পূজাতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না, আবার পূজায় অংশগ্রহণ করলে এসে পরীক্ষা দিতে পারবে না। 

এদিকে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে আমরা নতুনভাবে পরিচিত হচ্ছি। মূলত শতভাগ শিক্ষার্থী যেন ভালোভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে সেইদিকটির কথায় মাথায় রেখে প্রশিক্ষণ ও মডেল টেস্টের মতো বিষয়গুলো সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের বিষয়টি আমার জানা নেই, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের সমস্যা হলে পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হতে পারে।



সাতদিনের সেরা