kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

বৃদ্ধার মরদেহ কেউ নিল না, দাফন করল ছাত্রলীগ!

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০২১ ০৮:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৃদ্ধার মরদেহ কেউ নিল না, দাফন করল ছাত্রলীগ!

জীবন-জীবিকার তাগিদে ছেলে-মেয়েরা থাকেন ঢাকায়। তিন ভাই তারাও অতি দরিদ্র। তাই হাসপাতাল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ নিলেন না কেউই। সেই মরদেহ দাফন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনাটি ঘটে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায়। শনিবার (১৭ জুলাই) রাত ১১ টার দিকে ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বৃদ্ধার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ফাতেমা বেওয়ার স্বামী আজাহার আলী প্রায় একবছর আগে মারা গেলে লালমনিহাটের ছিনাই এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার সমন্বয় পাড়ায় ভাইয়ের বাড়িতে। কারণ লালমনিরহাটে তার কোন আপনজন ছিলেন না। এক ছেলে এক মেয়ে অনেক আগে থেকে পরিবার নিয়ে ঢাকয় থাকেন।

বৃদ্ধার ফাতেমার তিন ভাই অতি দরিদ্র। এ কারণে অসুস্থ হয়ে প্রায় দেড় মাস আগে ভর্তি হন ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানেই শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। দেড় মাসেও বৃদ্ধার আপনজন ও কোন আত্মীয়স্বজন হাসপাতালে খোঁজ খবর নিতে আসেনি।

অসহায় বৃদ্ধার মুত্যুর খবর উপজেলার সদরে জানাজানি হলে তার লাশ দাফনের দায়িত্ব নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পজেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তিন ভাই মরদেহ নিতে অপারগতাপ্রকাশ করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা হলেও তারা মরদেহ নিতে আসেননি। ছেলে-মেয়ে এখনও ঢাকায় রয়েছে।

পরে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৃদ্ধার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের সামনে জানাযা শেষে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বৃদ্ধার ভাইয়েরা জানিয়েছেন, তারা কেউ ভ্যানচালান, কেউ দিনমজুর ও কেউ হোটেল শ্রমিক। তাদের সংসার চলে না। বোনের মরদেহ আনা এবং দাফনের সামর্থ্য তাদের ছিল না। এছাড়া বোনকে কবর দেয়ার মত জায়গাও নেই। তাই মরদেহ নিতে যাননি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জানান, বৃদ্ধা দেড় মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেড় মাসেও কোন আত্মীয়-স্বজন দেখতে আসেনি। মৃত্যুর পরেও মরদেহ কেউই নিচ্ছে না যখন তখন আমরাই দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেছি।

শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. উম্মে হাফসা জানান, ওই বৃদ্ধা প্রায় দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কেউ একজন ভর্তি করে গেছেন। নানারোগে ভুগছিলেন তিনি। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান। ছাত্রলীগের ছেলেরা তার দাফনের ব্যবস্থা করে।



সাতদিনের সেরা