kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

বিদ্যালয়ে গরুর হাট! জানেন না প্রধানশিক্ষক

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০২১ ১৮:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদ্যালয়ে গরুর হাট! জানেন না প্রধানশিক্ষক

দোল্লাই নবাবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্র। ছবি: কালের কণ্ঠ

পবিত্র ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিদ্যালয়ের মাঠেই চলছে অবৈধ গরুর হাট। শ্রীমন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের হাট ইজারা ছাড়াই বসানো হয়েছে। আর নবাবপুর ও ধেরেরা অস্থায়ী হাট অন্য জায়গা দেখিয়ে সরকারিভাবে ইজারা নিয়ে পরবর্তীতে বিদ্যালয় মাঠে বসানো হয়।

জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চান্দিনা উপজেলায় ৪টি স্থায়ী গরু বাজার রয়েছে। পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষ্যে উপজেলায় আরো ৮টি অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারা দেয় উপজেলা প্রশাসন। স্থায়ী ও অস্থায়ী ১২টি গরু বাজারের স্থলে বর্তমানে চান্দিনায় অন্তত ২৩টি গরুর হাট রয়েছে। ২৩টির মধ্যে ১১টি হাটেরই কোনো অনুমোদন নেই। এছাড়া ৩টি বিদ্যালয়ের মাঠে সপ্তাহে ২দিন করে চলে গরুর ওই হাট।

অবৈধভাবে চান্দিনার শ্রীমন্তপুর, ছয়ঘড়িয়া, শুহিলপুর, কালিয়ারচর, গল্লাই-তালতলা, মহিচাইল-ছেঙ্গাছিয়াসহ আরো অন্তত ৫টি হাট চলছে। করোনা মহামারিতে সংক্রমণ রোধে প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ওইসকল হাটে পশু বেচাকেনা হচ্ছে। এতে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

চান্দিনার শ্রীমন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘কে বা কারা গরুর বাজার বসিয়েছে- আমি কিছুই জানি না। শনিবার স্কুলে এসে মাটে খুঁটি দেখে শুনেছি শুক্রবার নাকি গরুর হাট বসেছিল’। কারা বসিয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না।’ ধেরেরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘শুনেছি বিদ্যালয়ে মাঠে গরুর হাট বসিয়েছে।’ 

ধেরেরা গরু হাটের ইজারাদার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৫৫১ দাগে ইজারা নিয়েছি। মাঠের এক পাশে খুঁটি দেই। যেখানে আমাদের ইজারা আছে। স্কুলের জায়গায় খুঁটি দেইনি।’ 

নবাবপুর গরু বাজার পরিচালনা পর্ষদ সদস্য আশেক এলাহী বলেন, ‘নবাবপুরে স্থায়ী গরু বাজার আছে। ঈদের সময় ওই জায়গাতে সংকুলান না হওয়ায় স্কুল মাঠে নিয়ে আসি। ঈদের সময় মাত্র ২টি বাজারই হয় স্কুল মাঠে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ আফরোজ বলেন, ‘বিদ্যালয় মাঠে গরু বাজার বসানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবো এবং যদি কোনো বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক এতে সংশ্লিষ্ট থাকে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুন নাহার বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি জায়াগায় অস্থায়ী গরুর হাট ইজারা দিয়েছি। কোনো বিদ্যালয়ের মাঠে নয়। যারা বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসিয়েছি খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া অনুমোদনহীন গরুর হাট বন্ধে মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।’



সাতদিনের সেরা