kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

নাসির মরিয়া প্রমাণ করিলেন তিনি জীবিত ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৭ জুলাই, ২০২১ ১৬:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাসির মরিয়া প্রমাণ করিলেন তিনি জীবিত ছিলেন

কঙ্কাল প্রায় অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই নাসির মন্ডল (৪৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পরেই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিনি মারা যান৷ শুক্রবার রাতে উপশহর ফাঁড়ি পুলিশ তাকে পালসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে কঙ্কাল প্রায় অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেন। মৃত নাসির শহরের মধ্যে পালসা (মন্ডল পাড়া) মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।

এর আগে স্থানীয়ারা নাসিরকে মৃত ভেবে খাটিয়া এনে ধর্মীর রীতিমতো ৩ ঘণ্টা ধরে দাফনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। তবে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে জীবিত পেয়ে হাসপতালে নিয়ে যায়।

নাসিরের বন্ধু সুজন জানান, নাসিরের এক সময়ের প্রচুর টাকা ও আড়াই বিঘা জমি ছিল। তবে নেশা করাসহ বিভিন্ন বাজে কাছে সে নিজের ভিটে মাটিও বিক্রি করে দৈন হয়ে পরে। এজন্য তার স্ত্রী এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে ছেড়ে চলে যায়। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে শোকে নাসির খাওয়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তার দুই মেয়ে শহরে বিয়ে দিলেও বাবার কর্মকাণ্ডের জন্য কেউ খোঁজ রাখতো না। শুধু মাত্র জুস খেয়ে ও ফলের রস খেয়ে নাসির জীবন ধারণ করতো। গত তিনদিন আগে তিনি পালসা প্রাইমারি সরকারি স্কুল মাঠে এসে থাকা শুরুকরেন তিনি।

সুজন আরো জানান, আমিসহ প্রতিবেশীরা তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করলেও তিনি খাবার খাইতেন না। মৃত নাসিরের বোন জামাই সাইদুল মন্ডল জানায়, শুক্রবার এশার নামাজ পরে আমি তাকে দেখতে আসি। ওই সময় দেখি তার নড়াচড়া নেই। পরে স্থানীয়রা সবাই আসলে আমরা ভেবে নেই নাসির মারা গেছে।

উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহিম জানান, স্থানীয় এক যুবক ৯৯৯ এ কল দিলে আমরা নাসিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এর আগে স্থানীয়রা তাকে মৃত ভেবে খাটিয়া এনে দাফনের কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ৩ ঘণ্টায় মানুষটিকে শত শত উৎসুক জনতার মাঝে কেউ যাচাই করে দেখেনি সে বেঁচে আছে কিনা। আমাদের আগে জানালে হয়তো মানুষটি বেঁচে যেতো।

তিনি আরো বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তার মরদেহ আমরা পরিবারের কাছে হস্থান্তর করেছি। শুনেছি বাদ যোহর তার জানাজা হবে।

এ বিষয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, নাসির মূলত তার কর্মকাণ্ডের জন্য পরিবার ও সমাজ কাঠামো থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। এরজন্য সে একপর্যায়ে একাকি ও সবার থেলে আলাদা জীবন বেছে নেয়। পাশাপাশি স্থানীয়দের ভূমিকা বর্তমান সমাজের সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাবকে তুলে ধরে। মানুষ দিনদিন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে যা সমাজ ব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক।



সাতদিনের সেরা