kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

শিশুগুলোর খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একমুঠো চাল!

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি    

১৫ জুলাই, ২০২১ ১২:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুগুলোর খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একমুঠো চাল!

এই বয়সে মায়ের স্নেহের আঁচল ধরে হাসি-খেলায় জীবন কাটানোর কথা। কিন্তু সে বয়সেই শিশুগুলো এতিমখানা কিংবা হোস্টেলের একাকিত্ব জীবনের স্বাদ নিয়ে বেড়ে উঠছে। আবার কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য মাটির পাত্র হাতে এক মুঠো চাল সংগ্রহের জন্য কড়া নাড়তে হচ্ছে মানুষের দরজায়।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কওমি মাদরাসার একদল শিশু শিক্ষার্থী মাটির পাত্র নিয়ে 'মুষ্টি চালের' জন্য যখন ঘটি হাতে যাচ্ছিল. তখন শিশুসুলভ চেহারায় ছিল বিষাদের ছায়া। দৃশ্যটি শুধু কোমলমতি শিশুদের ভাবায়নি, ভাবান্তর ঘটিয়েছে পথচারিদেরও। আধুনিকতার চরম উৎকর্ষতার এই যুগে কোমলমতি শিশুদের হাতে মাটির পাত্র নিয়ে নিজেদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন পরিবারের কাছে দ্বারস্থ হওয়ার এমন দৃশ্য বিদ্ধ করেছে এলাকার সচেতন মহলকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বার্থী কওমী মাদরাসাসহ এলাকার অনেক মাদরাসার কোমলমতি শিশুরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মাটির পাত্র (ঘটি) নিয়ে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে যেতে হয় চালের জন্য। ওই বাড়ির গৃহকর্তীরা প্রতিবেলা রান্নার সময় ঘটিতে এক মুষ্টি করে চাল রাখেন। ঘটি পূর্ণ হলে মাদরাসায় পৌঁছে দেন। আর এ চাল দিয়ে কোমলমতি শিশুদের খাদ্যর জোগান হয়। দারিদ্রতা, অভাব-অনটন, অবজ্ঞা, অসচেতনতা এবং মাদরাসার এতিমখানার জন্য সরকারি অপ্রতুল বরাদ্দর কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করে সচেতন মহল।

প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, একপ্রকার ভিক্ষার টাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো চলে। বিশেষ দেকভালের ব্যবস্থা নেই। এই শিশুরাই একদিন বড় হয়ে সাহায্য-ভিত্তিক জীবনযাপন করবে। হয়ত কোনো মসজিদের ইমামতি কিংবা ব্যক্তি সাহায্যে গড়ে তুলবে কোনো মাদরাসা। কিন্তু আজ যারা সমাজপতি কিংবা রাষ্ট্রের বড় কর্তা হয়ে আছেন তাদের মৃত্যুতে জানাজা দাফন দোয়ার জন্য এদের দ্বারস্থ হতে হবে। জীবনের সকল কিছু ফেলে বিদায়ের শেষ বেলায় যখন এদের কাছে ধর্না দিতে হবে একটু দোয়া মাগফিরাতের জন্য, তখন সামাজিক উচ্চমর্যাদা দিয়ে কোরানের আলোয় আলোকিত করা উচিত কোমলমতি শিশুদের। 

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাজেদুল হক কাওছার বলেন, এই বয়সটি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক গঠনের সময়। যদি তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজে তাদের বাধ্য করা হয় তাহলে মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে।

গৌরনদী উপজেলা সমাজসেবা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা সুশান্ত বালা কালের কণ্ঠকে জানান, যেকোনো এতিমখানার এতিমদের জন্য সরকারি বরাদ্দ নেয়ার জন্য নিবন্ধন করতে হয়। মাদরাসাটি এতিমখানা চালানোর জন্য কোনো নিবন্ধন করেনি।



সাতদিনের সেরা