kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

হবিগঞ্জে আলোচনায় রাজা-বাদশা!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ জুলাই, ২০২১ ০৯:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হবিগঞ্জে আলোচনায় রাজা-বাদশা!

রাজা ও বাদশা।

হবিগঞ্জে এবার কোরবানির হাটের আকর্ষণ শায়েস্তাগঞ্জের রাজা এবং বানিয়াচংয়ের বাদশা। কোরবানির হাটে না উঠেও এরই মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে আলোচিত এই দুই দেশীয় ষাঁড়। বাদশার দাম হাঁকানো হচ্ছে ১০ লাখ টাকা এবং রাজার দাম হাঁকানো হচ্ছে ৫ লাখ টাকা।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের আতুকুড়া-করিমনগর গ্রামের কৃষক আজিজুল মিয়ার বাড়ির পালিত দেশীয় একটি গাভী আড়াই বছর পূর্বে একটি ষাঁড় বাচ্চা জন্ম দেয়। জন্মের পরই বাচ্চার নাম রাখা হয় 'বাদশা'। বাদশা জন্মের পর মায়ের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে বাড়ির আঙ্গিনার জমিতে লাগানো ঘাস, খৈল,ভূষি, কুঁড়া খাওয়ানো হয়। এগুলো খাওয়ানোর মাধ্যমে বাদশা বেড়ে ওঠে।

গত ৫ জুন বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ আয়োজিত প্রাণী প্রদশর্নীতে উপজেলার শ্রেষ্ঠ পশু হিসেবে নির্বাচিত হয় কৃষক আজিজুল মিয়ার 'বাদশা'। আজিজুল মিয়ার হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

এবারের ঈদুল আজহা সামনে রেখে কৃষক আজিজুল মিয়া কোরবানির হাটে বাদশাকে বিক্রি জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকার লোকজন বাদশাকে দেখার জন্য প্রতিদিনই তার বাড়িতে ভীড় জমাচ্ছেন। বাদশাকে লালন পালন করতে দেশীয় খাবারের সাথে আড়াই বছরে খাবার ও চিকিৎসা বাবদ তার আরো প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক আজিজুল মিয়া। তবে এবারের বাজারে গরুটি (বাদশা) এর দাম দেখে তিনি বিক্রি করতে চান। ওই বিশাল আকৃতির গরুটির লালন পালনে কোন মোটা তাজা করণের ইনজেকশনও পুশ করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীরা জানিয়েছেন, এতো বড় আকারের গরু অত্র এলাকায় আর কেউ লালন-পালন করেননি। তাই কৃষক আজিজুল মিয়ার বাদশাকে দেখার জন্য লোকজন প্রতিদিন ভীড় জমাচ্ছেন।

কৃষক আজিজুল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাদশাকে দেখার জন্য লোকজন ভীড় জমাচ্ছেন। এ সময় অনেকেই বাদশা’র দাম এবারের বাজারে কত টাকা হতে পারে এ নিয়ে আলোচনা করছেন।

কৃষক আজিজুল মিয়া জানান, বাদশার উচ্চতা হবে সাড়ে ৬ ফুট, লম্বায় ৯ ফুট, বুকের মাপ সাড়ে ৮ফুট। বাদশার থেকে ২০/২২ মণ মাংস হবে বলে জানান তিনি। এবারের কুরবানির হাটে বাদশাকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান। আজিজুল মিয়ার খামারে আরো ১১ টা গরু রয়েছে।

এদিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কুতুবেরচক গ্রামের ইকবাল মিয়ার পালিত ষাঁড়ের নাম রাজা। এ বছরে উপজেলার সর্ববৃহৎ কোরবানির পশু বলেই ধরা হচ্ছে এই ষাঁড়টিকে। তাইতো আদর করে রাজা নাম দিয়েছেন খামারী। ৯ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা, ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা আর ওজন ২১ মণ। ৪ বছর বয়সী রাজার দামা হাঁকানো হচ্ছে ৫ লাখ টাকা।

ইকবাল মিয়া জানান, বৃহতাকার এই ষাঁড়ের জন্য প্রতিদিনের বাজেট প্রায় ৫শ টাকা। খাবারের মেন্যুতে থাকে খৈল,খড়, ভূষি, ধানের কুড়া, ডাল আর নিজের জমিতে লাগানো ঘাস। রাজাকে দেখতে প্রতিদিন বাড়িতে ভীড় করেন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ।

লামিয়া ডেইরি ফার্মের স্বত্তাধিকারি ইকবাল মিয়া বলেন, সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে চাকুরি করতেন। অবসরে আসার পর ৫ বছর আগে ১২ টি গাভী নিয়ে লামিয়া ডেইরী ফার্ম শুরু করেন। দুধ বিক্রি করেন আশেপাশের এলাকায়। একটি গাভীর বাচ্চা খুব দ্রুত বড় হতে থাকে। এজন্য এর নাম রাখেন রাজা। এই চার বছরে সম্পুর্ন বিশুদ্ধ খাবার খেয়ে বড় হয়েছে রাজা। কোন প্রকার মোটাতাজার ঔষধ বা ইনজেকশন ছাড়াই গরুটির ওজন ২১ মণ হয়েছে। গত কোরবানির ঈদের সময় গরুটি হাটে তুলে আশানুরোপ দাম না পাওয়ায় বিক্রি করেননি। এবার তিনি রাজার দাম হাঁকাচ্ছেন ৫ লাখ টাকা।

তিনি আরো বলেন, ঢাকায় হলে এই গরু ৮/১০ লাখ টাকা দাম হইতো। কিন্তু মফস্বলে এতো দামে কেউ কিনবে না, তাই ৫ লাখ টাকা দাম চাই।



সাতদিনের সেরা