kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

মুন্সীগঞ্জে এক কাউন্সিলরের বর্বরতা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ জুলাই, ২০২১ ০৩:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জে এক কাউন্সিলরের বর্বরতা

চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবকের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছেন এক জনপ্রতিনিধি। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন গত সোমবার এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। নির্যাতনের শিকার মুরাদ হোসেন রনি সদরের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মোরশেদ হোসেনের ছেলে।

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রনি বাদী হয়ে কাউন্সিলর আওলাদসহ আরো দুজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেছেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মনির হোসেন ও কালাই হোসেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মনির হোসেনের বাড়ি থেকে চার ভরি সোনা ও ২২ হাজার টাকা চুরি হয়। ওই চুরির ঘটনায় জড়িত দাবি করে সোমবার সকালে প্রতিবেশী রনিকে বাড়ি থেকে ধরে আনেন কাউন্সিলর আওলাদ হোসেনসহ মনির ও তাঁর ভাই কালাই। পরে মনিরের বাড়ির উঠানে হাত-পা বেঁধে রনির ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন আওলাদ। তবে মারধরের পরও চুরির ওই ঘটনায় জড়িত নন বলে জানান। পরে রনির ছোট ভাই থানা থেকে পুলিশ নিয়ে এলে পুলিশের কাছে রনিকে সোপর্দ করেন মারধরকারীরা।

নির্যাতনের শিকার রনি বলেন, ‘সকালে বাসায় আইসা কাউন্সিলর আওলাদ জিজ্ঞাসার কথা বলে আমাকে মনিরদের বাড়িতে নিয়া যান। সেখানে নিয়া আমার হাত-পায়ে বান দিয়া মারে আর চুরির কথা স্বীকার করতে বলেন। আমি তো চুরি করি নাই, আমি কেন স্বীকার করুম? আমারে শুধু শুধু মারধর করছে। আমি এর বিচার চাই।’

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি রনিকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসিনি। মনিরদের বাড়িতে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছে জানতে পেরে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি অনেক মানুষ সেখানে। পরে ক্রেডিট নেওয়ার জন্য তাঁকে মেরে ছেড়ে দিয়েছি। পুলিশ এলে চিকিৎসা করানোর কথা বলি। আমার ভুল হয়েছে। মারধরের অধিকার আমার নেই, আমি অনুতপ্ত।’ এক প্রশ্নের জবাবে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘না, রনি চুরি করেছেন এমন কোনো প্রমাণ পাইনি।’

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিনহাজ-উল-ইসলাম বলেন, মারধরের ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। কালাই ও মনির নামের দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা