kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

হংকংয়ে আম রপ্তানির দ্বার উম্মোচন

আহসান হাবিব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১৩ জুলাই, ২০২১ ২১:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকংয়ে আম রপ্তানির দ্বার উম্মোচন

স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আম রপ্তানি হলো হংকংয়ে। এতে করে আম রপ্তানির নতুন দ্বার উম্মোচন হলো। হংকংয়ে আমের প্রথম চালানটি পৌঁছে সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-০৭৮ বিমানে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক এমটিবি অ্যাগ্রো অ্যান্ড গার্ডেন এর স্বত্বাধিকারী মো. মাহতাব আলী হংকং এর এক্সিয়াম রিসোর্স লিমিটেড এর কাছে আমগুলো প্রেরণ করেন।

আমদানি ও রপ্তানিকারকরা জানান, এর আগে হংকংয়ে কখনোই আম রপ্তানি হয়নি। হংকং হয়ে চলে গেছে অন্যদশে। এবারই প্রথম সরাসরি হংকংয়ে আম রপ্তানি হয়েছে।

বাংলাদেশ ফল সবজি অ্যালাইড প্রোডাক্টক এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশসের সদস্য ও হংকংয়ে আম রপ্তানিকারক মাহতাব আলী জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক কন্ট্রাক্ট ফার্মারের ম্যাংগো প্রজেক্টের আম্রপালি, ফজলি ও বারী ফোর আম নিয়ে সরবরাহ করি হংকংয়ে। এর আগে দেশি কয়েকটি স্বনামে খ্যাত শপিংমল, প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কাছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আম নিয়ে প্রতিটি আমে আমার প্রতিষ্ঠানের স্টিকার দিয়ে নতুন নিজস্ব প্যাকিং করে সরবরাহ করি। আমকে ব্রান্ডিং, আকর্ষণীয় ও উপহার প্রদানের উপযোগী বক্স করে সবচেয়ে উন্নত ও দৃষ্টিনন্দন প্যাকিং করছি। এ মৌসুমে দেশে ও বিদেশে আরো আম সরবরাহের জন্য বুকিং দেওয়া আছে।

তিনি আরো জানান, আম রপ্তানিতে দেশে তেমন নীতিমালা না থাকায় নিজেই হংকংয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করলে সহায়তা করে। এরপর রপ্তানির বিষয়ে নিয়মাবলী দেশে পেতে একমাস সময় চলে গেছে। নীতিমালা স্পষ্টভাবে একজায়গায় না থাকা ও কার্গো বিমানে লোডারদের স্মুথলি লোড না করার জন্য আম নষ্টের ঝুঁকি থাকে। আপাতত এ দুটি বড় সমস্যা বলে মনে হয়েছে।

আমচাষি শহিদুল ইসলাম জানান, আমার প্রজেক্টের আম নিয়ে গত মাসে সুইডেনে জিআই পণ্য ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আমের তিনটি বড় চালান আরেক রপ্তানিকারক নিয়ে সরবরাহ করেছে। এবার হংকংয়ে পাঠানোর জন্য মাহতাব আলী কয়েক দফায় আম নিয়েছেন এবং এ মৌসুমে ব্যানানা ও গৌড়মতি, বারী ফোর, ফজলি ও আম্রাপালি আরো আম নেবেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, কন্ট্রাক্ট ফার্মার আহসান হাবিব কয়েক দফায় বিদেশে রপ্তানির জন্য আম সরবরাহ করেছেন।

ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস জানান, আম রপ্তানিতে কার্গো ভাড়া কমানো এবং রপ্তানিকারকদের প্রণোদোনা প্রদানসহ উৎপাদনকারীদে বীমার ব্যবস্থা করতে হবে। রপ্তানিসহ আমের ন্যায্য দাম ও সরবরাহে সমস্যা না থাকলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হবে। নায্যমূল্য আম বিক্রি হলে যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

বৃহত্তর রাজশাহী সমিতি, ঢাকার সভাপতি প্রকৌশলী ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহতাব উদ্দিন জানান, সরকারপ্রধান সারা বিশ্বে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ৪ টন করে আম উপহার দেবেন বলে অসমর্থিত সূত্র থেকে শুনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি, যদি এমন হয় তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম সরবরাহের জন্য।



সাতদিনের সেরা