kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

'স্বপ্নেও ভাবিনি পাকা ঘর পাব, এখন শান্তিতে আছি'

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০২১ ১৭:০২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



'স্বপ্নেও ভাবিনি পাকা ঘর পাব, এখন শান্তিতে আছি'

“আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় কুলাউড়ায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে মোট ২১০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয় একটি করে ঘর। দেশের বিভিন্ন জায়গায় যখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ নিয়ে চলছে তোলপাড়। সেখানে কুলাউড়ায় সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর যেন একটা রোল মডেল। গৃহহীনদের জন্য যা স্বপ্নের বাড়ি। চারপাশে ইটের দেয়াল এবং ছাদে লাল, সবুজ ও নীল রঙের টিনের ছাউনি। ভূমিহীনরা কখনো স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি যে তারা জীবনের একটা পর্যায়ে এসে এখন একটি পরিপূর্ণ নতুন ঘর পাবেন। দীর্ঘদিন তারা অন্যের বাড়িতে দুঃখে কষ্টে আশ্রিত ছিলেন। এখন তারা প্রত্যেকে উঠেছেন নিজেদের স্বপ্নের নীড়ে।

সরেজমিন সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী, জয়চন্ডী ইউনিয়নের উত্তর কুলাউড়া (পুষাইনগর), ভাটেরা ইউনিয়নের কড়ইতলা, ইসলামনগর এলাকায় প্রকল্পের অন্তত অর্ধ শতাধিক ঘর পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলার তুলনায় কুলাউড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মিত ঘরে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম বা সমস্যা দেখা দেয়নি। ঘরে ফাটল কিংবা মেঝের সিমেন্ট উঠে যাওয়ার মতো ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি। এমনকি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত স্থান নির্ধারণে বেশ রুচির পরিচয় দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই রুম বিশিষ্ট ঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও স্টোর রুম। কেউ কেউ শোভাবর্ধনের জন্য ঘরের আঙ্গিনায় লাগিয়েছেন ফুল ও ফলের গাছ। ঘর ঘেঁষে তৈরি করছেন আলাদা আরো প্রয়োজনীয় গুদাম ঘর। এদিকে অনেক উপকারভোগীরা জানালেন, ঘর পেলেও তারা এখনো বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যা রয়েছেন। তারা অতি দ্রুত এই সমস্যা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।

গত ১০ জুলাই কুলাউড়ার জয়চন্ডী ও কর্মধা ইউনিয়নে প্রকল্পের ঘরের কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মল্লিকা দে। এ ছাড়া গত ১৯ জুন কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী এলাকায় প্রকল্পের ঘর সরেজমিন পরিদর্শনে এসে ঘরের কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজু। এ সময় তিনি স্থানীয় উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

হেলাল মিয়া (৪১)। তিনি কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব কর্মধা এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি ভ্যানগাড়ি চালক। একই ইউনিয়নের টাট্টিউলী এলাকার ফখরুল আলম (৩৭) পেশায় গাড়িচালক। ফয়জুন বেগম (৪৬) ও আজিরুন বেগম (৪৫)। তারা দুজনেই স্বামী পরিত্যক্তা। উভয়ইে অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারীকার কাজ করে পরিবার চালাতেন।

জয়চন্ডী ইউনিয়নের উত্তর কুলাউড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে বাস করছেন গৌরি দাস (৪০)। তার স্বামী কৃতিষ দাস (৬০) পেশায় রিকশাচালক। মো. শুকুর মিয়া (৪৫) একজন চটপটি বিক্রেতা। সবজান বিবি (৫৫) একজন স্বামী পরিত্যক্তা। তিনি মানুষের বাড়িতে গৃহপরিচারীকার কাজ করতেন। নির্মল দাস (৬০) একজন রিকশাচালক। নিপালী রাণী দাসও (৩২) একজন স্বামী পরিত্যক্তা। ভাটেরার কড়ইতলায় নির্মিত ঘরে বাস করছেন গোলাপ মিয়া (৭০)। তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। রীণা বেগম (৫০) ৭ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন।

এতোদিন সবাই গৃহহীন হয়ে অন্যের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিনাতিপাত করে আশ্রিত ছিলেন। এখন তারা প্রত্যেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে বেজায় খুশি। তাদের চোখে মুখে যেন হাসির ঝিলিক। মুজিববর্ষে তাদের সকলের ভাগ্যে বদল হয়েছে। স্বপ্নের নতুন ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তারা প্রত্যেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শেখের বেটি (শেখ হাসিনা) কারণে আমরা নতুন ঘর পাচ্ছি। কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি একটি পাকা ঘর পাব। কিন্তু শেখের বেটির কারণে আমাদের সেই কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন মরার আগে কিছুদিন শান্তিতে বাঁচতে পারব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তালিকাভুক্ত ৪৪০ ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০০টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে ১১০ ভূমিহীন পরিবার পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতি ১০টি ঘরের জন্য দেওয়া হবে একটি করে ডিব টিউবওয়েল এবং বিদ্যুতায়নও করা হবে ঘরগুলো।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় নিয়ে আসতি আমরা কাজ করছি। 

পানীর বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মুহসিন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে ইতিমধ্যে যেসব ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে বেশিরভাগ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে যেসব ঘরে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা এখনো হয়নি তা বাস্তবায়ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাথে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা কার্যকর করা হবে। 



সাতদিনের সেরা