kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

কলকাতায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ৩, আলোচিত সেলিম মুন্সি পালিয়ে এখন বাংলাদেশে

গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়া প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০২১ ১৬:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কলকাতায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ৩, আলোচিত সেলিম মুন্সি পালিয়ে এখন বাংলাদেশে

কলকাতার সংবাদমাধ্যম জি নিউজ ২৪ ঘণ্টায় প্রকাশিত সেলিম মুন্সির ছবি

গত শনিবার (৩ জুলাই) ভারতের কলকাতার হরিদেবপুর থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআ'তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলাম ও সাব্বির ওরফে মিকাইলের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামে। রবিউল ইসলামের পিতার নাম ইলিয়াছ খান ও সাব্বির ওরফে মিকাইলের পিতার নাম মোসলেম খান। অপরদিকে নাজিউর রহমান ওরফে পাভেলের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামে।

এই তিনজন গ্রেপ্তারের পর কলকাতার সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে সেলিম মুন্সির নাম। ওই তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা গেলেও সেলিম মুন্সি পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানিয়েছে কলকাতার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

সেলিম মুন্সি (৪৫) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মৃত সুরাত মুন্সির ছেলে। তিনি বিগত ২০ বছর ধরে কলকাতার সোদপুরে ব্যবসা করছেন। সেলিমের বড় ভাই হালিম মুন্সিও কলকাতায় থাকেন বলে জানিয়েছেন হিরণ গ্রামে বসবাসরত সেলিম মুন্সির স্ত্রী শাহিনুর বেগম। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) তার স্বামী সেলিম মুন্সি কলকাতা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন।
 
তবে আজ মঙ্গলবার সকালে সেলিম মুন্সির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জেএমবি সদস্য রবিউল ইসলাম, সাব্বির ওরফে মিকাইলম ও নাজিউর রহমান ওরফে পাভেল গ্রেপ্তারের পরে সেলিম মুন্সি বাংলাদেশে পালিয়ে এসে গাঢাকা দিয়েছেন।
 
এদিকে কলকাতার সংবাদমাধ্যমে ৩ জেএমবি সদস্য গ্রেপ্তার ও সেলিম মুন্সিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেলিম মুন্সিকে খুঁজতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে রবিউল ইসলাম, সাব্বির ওরফে মিকাইল ও সেলিম মুন্সির সাথে জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী ও তাদের পরিবার।
 
হিরণ গ্রামের তুহিন মুন্সি বলেন, সেলিম মুন্সি, রবিউল ইসলাম ও সাব্বির ওরফে মিকাইল এলাকায় ভালো লোক বলে পরিচিত। এরা কোনো মাদরাসায় লেখাপড়া করেননি। আমার জানামতে জঙ্গিদের সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা সকলেই খেটে খাওয়া মানুষ। সংসার চালাতে এরা কলকাতায় ছাতা মেরামতের কাজে করতে গিয়েছিলেন।
 
রবিউল ইসলামের পিতা ইলিয়াছ খান বলেন, পাশের গ্রামের একটি মেয়ের সাথে আমার ছেলে রবিউলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ৬ মাস আগে ওই মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার ছেলের নামে একটি মামলা দেওয়া হয়। এই মামলার পরে আমার ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গত ৬ মাস ধরে আমার ছেলে পলাতক রয়েছে। সেই সময় থেকে আমার সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। 

সেলিম মুন্সির স্ত্রী শাহিনুর বেগম বলেন, ২০ বছর ধরে আমার স্বামী কলকাতায় থাকেন। তবে সে মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতো। প্রথমে কলকাতায় গিয়ে ছাতা মেরামতের কাজ শুরু করে। তারপর এদেশ থেকে সে লোক নিয়ে তাদের দিয়ে ছাতা মেরামতের ব্যবসা করতো। আমাদের গ্রামের রবিউল ইসলাম ও মিকাইল এবং টুঙ্গিপাড়ার নাজিউর আমার স্বামীর কাছে কাজ করতো বলে শুনেছি। এরা সকলেই পেটের দায়ে কাজ করতে কলকাতা গেছে। এদের বিরুদ্ধে যে জঙ্গি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেটি আমার মনে হয় সম্পূর্ণ মিথ্যা। গত বৃহস্পতিবার আমার স্বামী বাড়িতে এসেছে। 

তিনি আরও জানান, গত সোমবার বিকেলে সে আমাদের এক আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছীল। তবে কোথায় গিয়েছেন তাহা সাংবাদিকদের জানাননি সেলিম মুন্সির স্ত্রী শাহিনুর বেগম।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ভারতে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। এদের সম্পর্কে আমার কাছে এখনও কেউ কিছু জানতে চায়নি। তারপরও এদের খোঁজখবর নেব। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা