kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

নওগাঁয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দেড় হাজার 'গৃহহীন পরিবার'

নওগাঁ প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০২১ ১৩:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নওগাঁয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দেড় হাজার 'গৃহহীন পরিবার'

সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে নওগাঁয় আরো ১৫৫৮টি গৃহহীন পরিবার তাদের ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় জেলার ১১টি উপজেলায় এসব গৃহহীন পরিবার জীবনযাপন করছে। 

প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, একটি টয়লেট, রান্নাঘর, কমনস্পেস, একটি বারান্দা, বিদ্যুৎ ও পানির সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব গৃহ প্রত্যেক পরিবারের জন্য আলাদা করে নির্মাণ করা হয়েছে। 

তবে কয়েকটি ঘরের ফাটল ও মেঝের পলেস্তারা উঠে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসন বলছে, নিচু জমি ভরাট করে নতুন মাটিতে ঘর নির্মাণ ও বর্ষার কারণে দুই-একটি ঘরে এই সমস্যা দেখা গেছে। তবে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। এসব শোনার সাথে সাথে এসব ঘর পুনরায় মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার আবাদপুর গ্রামের উপকারভোগী স্বপন জানান, আমি প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাওয়ার পর ঘরে ওঠার কিছু দিন পর দেখি আমার ঘরের দেয়াল ও মেঝের প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানানোর পর দেয়াল প্লাস্টার ও মেঝেতে প্লাস্টার করে দেয় এবং আবার রং করে ঠিক করে দিয়েছে। এখন আর কোনো অসুবিধা নেই।

উপকারভোগী লুৎফর রহমান, ফরিদা খাতুন, রশিদা বিবি, আমিনুল ইসালামের সাথে কথা হলে তারা বলেন- একসময় তাদের কোনো মাথা গোঁজার ভালো জায়গা ছিল না। অন্যের জমিতে কুঁড়ে ঘর করে কোনো রকম দিন যাপন করতেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদের এসব ঘর করে দেওয়ার পর থেকে তাদের থাকার আর কোনো অসুবিধা হয় না।

তারা আরো বলেন- এসব ঘরে টয়লেট, বিদ্যুৎ ও পানির সুব্যবস্থা থাকায় তাদের কোনো রকম ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। বিদ্যুতের আলোয় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাও করাতে পারে। তাই তারা খুশি।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশীদ জানান- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় জেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ৫৫৮ জন পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্তপূর্বক, কবুলিয়ত ও নামজারিসহ এসব ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব ঘর নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে সরকারের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। যার ফলে এতগুলো পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।

ঘরে ফাটল ও মেঝের পলেস্তারা উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব নিচু জমি ভরাট করে নতুন মাটিতে ঘর নির্মাণ ও বর্ষার কারণে দুই-একটি ঘরে সামান্য এই সমস্যা দেখা গেছে। আমরা শোনার সাথে সাথে এসব ঘর পুনরায় মেরামত করে দিয়েছি। যাতে করে তাদের  থাকতে কোনো অসুবিধা না হয়। এরই মধ্যে সেগুলো ঘর পরিদর্শনও করেছি। আমরাও চাই প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্য নিয়ে এসব গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর হস্তান্তর করছেন, তা যেন পূরণ হয়।



সাতদিনের সেরা