kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

এখন ফুরফুরে মেজাজে আছেন তারা

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০২১ ১৪:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এখন ফুরফুরে মেজাজে আছেন তারা

নওগাঁর মান্দায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপে ১১১টি গৃহহীন পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। মুজিব জন্মশতর্বষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-১ ও ২ এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য এসব বসতঘর নির্মাণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি বসতঘরে দুটি কক্ষ, একটি টয়লেট, রান্নাঘর, কমনস্পেস, একটি বারান্দাসহ বিদ্যুৎ ও পানির সুব্যবস্থা রয়েছে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বর্দ্দপুর আশ্রয়ণ পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে, পল্লীর নারীরা দুপুরের রান্নার যোগাড়ে ব্যস্ত। পুরুষরা বিভিন্নভাবে ঘোরাফেরা করছেন। লকডাউনের কারণে কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে পারেননি অনেকে। এ জন্য অলস সময় কাটছে তাদের।

আশ্রয়ণ পল্লীর বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একসময় তাঁদের মাথাগোঁজার ভালো কোনো ঠাঁই ছিল না। অন্যের জমিতে কুঁড়েঘরে কোনোরকম দিনযাপন করতেন। বরাদ্দ পাওয়া এসব ঘরে টয়লেট, বিদ্যুৎ ও পানির সুব্যবস্থা থাকায় তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। বিদ্যুতের আলোয় ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী আজাদ বলেন, স্ত্রী কাজলি বিবি ও মেয়ে আলেমা খাতুনকে নিয়ে অন্যের এক টুকরো জমির ঝুপড়িঘরে বসবাস করতেন। বিভিন্ন দুর্যোগ মাথায় নিয়ে কাটিয়ে দিতে হয়েছে বছরের অর্ধেক সময়। সহযোগিতার ভয়ে কেউ ফিরেও দেখতেন না। ভিক্ষাবৃত্তি করে অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ পল্লীতে একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। নতুন ঠিকানায় স্ত্রীকে নিয়ে অনেক সুখেই কাটছে তাঁদের দিন। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেয়েছেন। এ জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করেন।

একই পল্লীর বাসিন্দা শুভবালা ঋষি জানান, স্বামী সুধা চন্দ্র ঋষি প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে গনেশপুর ইউনিয়নের সতিহাট ঋষি পল্লীতে অত্যন্ত দুর্বিসহ দিন কাটাতে হয়েছে। এখন নতুন ঠিকানার সুন্দর পরিবেশ অনেক ভাল লাগছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-১ এর আওতায় ৯০ ও আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২১ পরিবার মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন। একই সঙ্গে দুই শতক জমির কবুলিয়ত রেজিস্ট্রির দলিল, নামজারিসহ যাবতীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারগুলোর হাতে।



সাতদিনের সেরা