kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

করোনা লকডাউন

হতদরিদ্রদের জন্য কোন বরাদ্দ নেই, বিতরণ হয়নি ভিজিএফ’র চাল

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০২১ ১১:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হতদরিদ্রদের জন্য কোন বরাদ্দ নেই, বিতরণ হয়নি ভিজিএফ’র চাল

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১ জুলাই থেকে একটানা দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যান চলাচল। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। লকডাউনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বরগুনার আমতলী উপজেলার কোথাও সরকারি-বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে সহায়তা প্রদান করা হয়নি। ফলে পরিবার- পরিজন নিয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন তারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে পৌরসভা এবং উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চলমান লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তবে পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ঈদ সহায়তা হিসেবে বিশেষ ভিজিএফ’র ৩৫৫’৮৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি ওই চালও উপজেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া খেটে খাওয়া নিম্ম আয়ের মানুষগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।

পৌর শহরের নুরজাহান ক্লাবের সামনের চা মুড়ি ডিম বিক্রেতা মোঃ খলিলুর রহমান। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে তার দোকান বন্ধ। এই দোকানের আয় দিয়েই তার ৫ জনের সংসার চলে। করোনায় শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাধ্যহয়ে তার দোকানও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে তার আয় রোজগার সব বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে সে কিভাবে সংসার চালাবে তা ভেবে পাচ্ছেন না। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি পায়নি কোন প্রকার সহায়তা। খলিলুরের মত এরকম শত-শত ছোট ছোট চা-বিস্কুটের দোকানসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যা লকডাউনে বন্ধ থাকায় মালিকরা আয় রোজগারহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে কষ্টে দিন পার করছেন কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবহন শ্রমিক ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।

কথা হয় উপজেলার গুলিশাখালীর খেকুয়ানী থেকে উপজেলা সদরে আসা দিনমজুর আবুল হোসেনের সাথে। তিনি জানায়, প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে পায়ে হেটে উপজেলা সদরে আসেন কাজের সন্ধানে। কিন্তু লকডাউনের কারনে কেউ তাকে কাজে নেয় না। তাই নিরাশ হয়ে আবার তিনি বাড়ি ফিরে যান।

পরিবহন ও মাহেন্দ্রা শ্রমিক মোঃ বাবুল মিয়া, কামাল, জাফর, মনির, আঃ সালাম জানান, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সারাদেশের ন্যায় আমতলীতেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যে কারনে আমরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারছি না। আজ ১২ দিন পর্যন্ত আমাদের আয় রোজগারও বন্ধ। ঘরে থাকা চালটুকুও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবার সামনে কোরবানি, কি করবো তা ভেবেই পাচ্ছি না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষের জন্য কোন বরাদ্দ আসেনি। তবে পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ঈদ সহায়তার বিশেষ ভিজিএফ’র ৩৫৫’৮৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা আজ কালের মধ্যে বিতরণের জন্য ডিউ প্রদান করা হবে।

চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আখতারুজ্জামান খান বাদল বলেন, লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়াদের জন্য কোন বরাদ্দ পাইনি। হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ সহায়তার বিশেষ ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দের জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চাল ছাড়ার ডিও পাওয়া মাত্র সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবো।

আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, আমার ইউনিয়নের গরিব অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাই প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা তৈরী করার কাজ চলমান আছে বরাদ্দের ডিও পাওয়া মাত্র তা হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে। তিনিও লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়াদের জন্য কোন বরাদ্দ পায়নি বলে জানায়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদ সহায়তার বিশেষ ভিজিএফ’র চাল বিতরণের জন্য আমি সকল জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছি। বরাদ্দগুলো যেন প্রকৃত উপকার ভোগীরা পায় এবং সঠিকভাবে তাদের মাঝে যেন বিতরণ করা হয় তার ব্যবস্থা নিতে।



সাতদিনের সেরা