kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

অভাবে দিন কাটাচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপের কর্মহীন কামার শ্রমিকরা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১২ জুলাই, ২০২১ ০০:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভাবে দিন কাটাচ্ছে কুতুবদিয়া দ্বীপের কর্মহীন কামার শ্রমিকরা

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো কর্মহীন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়ার শ্রমজীবী মানুষগুলোও। এসব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা দ্বীপের স্বল্পসংখ্যক পেশাজীবী কামারের। সবচেয়ে বেশি অবহেলিতও এই পেশাজীবীরা। কর্মহীন হয়ে পড়া কুতুবদিয়া দ্বীপের কর্মকাররা কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সহায়তা কামনা করেছেন।

এমনিতেই করোনা পরিস্থিতিজনিত কারণে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ কর্মহীন হয়ে চরম আর্থিক অনটনে ভুগছে। চলতি বছর ঈদুল আজহায় অধিকাংশ মানুষ পশুর কোরবানি দিতে পারছে না। যার ফলে দা-ছুরির ব্যবহার কমে গেছে। তারই চিত্র চোখে পড়েছে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার কামারপাড়ায়।

কুতুবদিয়া উপকূলের কামারপাড়ায় শ্রমজীবী কর্মকারদের দিন যাচ্ছে চরম অভাবে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সারা দেশে লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ অর্থের অভাবে পড়েছে। এ কারণে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানিতে অংশ নিচ্ছে না সমাজের একটি বড় অংশের লোকজন। ফলে পশু জবাইয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কামারপাড়ার লোকদের তেমন আর ব্যস্ততা চোখে পড়ছে না।

বিগত বছরগুলোতে কোরবানির আগে কামারপাড়ায় দা, ছুরি বিক্রি ও শাণ দেওয়ার ধুম পড়ে যেত। কিন্তু আসন্ন ঈদুল আজহায় পশু জবাই, পশুর মাংস প্রক্রিয়াকরণসহ বিবিধ কাজে ব্যবহারের জন্য কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ও ধুরুং নামের দুটি বাজারে ১৫টি কামারের দোকানে ৪৫-৫০ জন কর্মকার পেশায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কামারের দোকানগুলোতে অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজকর্ম বলতে তেমন নেই। বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।

কুতুবদিয়া দ্বীপের ধুরুং বাজারে কামারপাড়ার কর্মকাররা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অভাবে দিন কাটানোর কথা জানিয়েছেন ধুরুং বাজারের মিলন হার্ডওয়্যারের মালিক মিলন নন্দী। তিনি জানান, গত বছর এদিনে কর্মকাররা কাজের ব্যস্ততার চাপে কথা বলার সময় ছিল না। কিন্তু এ বছর কাজের চাপ নেই।
 
একই এলাকার রাজু কর্মকার, দিবাকর কর্মকার জানান, প্রতিবছর এদিন দা, ছুরি তৈরি ও শাণ দেওয়ার জন্য ৫-৬ জন অতিরিক্ত কারিগর নিয়োগ দেওয়া লাগত। এ বছর লকডাউনের কারণে কাজ না থাকায় অতিরিক্ত লোক নিয়োগ বন্ধ রেখেছেন। জনাধন কর্মকার জানান, লকডাউনে তাদের কামারপাড়ায় কাজ নেই। যার ফলে তারা অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন।

বড়ঘোপ বাজারের কামার দোকান মালিক সুমন কর্মকার বলেন, জাত ও পেশায় কর্মকার। এ পেশা দিন দিন বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে। সরকার তাদের পুনর্বাসনের জন্য কোনো ধরনের আর্থিক অনুদান দেয়নি। তাদের এ শিল্প ধরে রাখার জন্য ব্যাংকও ঋণ দেয় না। দ্বীপের কামাররা এমন দুর্দিনে জেলা প্রশাসকের সহায়তা চেয়েছেন।



সাতদিনের সেরা