kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ইউএনওকে আপা বলায় আমাকে লাঠিপেটা করা হয়নি: দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ   

১১ জুলাই, ২০২১ ০২:১৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ইউএনওকে আপা বলায় আমাকে লাঠিপেটা করা হয়নি: দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী

ইউএনও রুনা লায়লা ও ব্যবসায়ী তপন চন্দ্র পাল

ইউএনওকে আপা বলার কারণে আমাকে লাঠিপেটা করা হয়নি। এমনকি তিনি লাঠিপেটা ও মারধর করার নির্দেশও দেননি। দোকান বন্ধ করতে দেরি হওয়ায় তার সঙ্গে থাকা এক পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে আমাকে সামান্য ধাক্কা ও বাড়ি দিয়েছে। এর জন্য ইউএনও স্যার দায়ি নন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লাকে জড়িয়ে 'ইউএনওকে আপা বলায় ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটা' শিরোনামে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে অর্থ দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন চন্দ্র পাল এসব কথা বলেন।

তপন চন্দ্র পাল উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর বাজারের প্রীতম জুয়েলার্সের মালিক। চলমান কঠোর লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  

তিনি আরো বলেন, খরিদ্দারদের চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার দোকান খোলাই। এদিন বিকালে জায়গীর বাজারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ভয়ে দোকানের ভেতরে খরিদ্দার রেখে বাইরে থেকে বন্ধ করে দেই। তখন দোকানে ৮-১০ জন খরিদ্দার ছিল। লকডাউনের বিধিনিষেধ লঙনের অভিযোগে আমাকে দুই হাজার টাকা ও মুখে মাস্ক না থাকায় কয়েকজন খরিদ্দারকে পাঁচ শ টাকা করে জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লা এবং দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। দোকান বন্ধ করতে দেরি হওয়ায় ইউএনও’র সঙ্গে থাকা এক পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে আমাকে হালকাভাবে ধাক্কা ও বাড়ি দিয়েছে। এ ঘটনার জন্য ইউএনও দায়ি নন।

স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পাল বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিক এ বিষয়ে আমার কাছে জানতে চান। তাদেরও আমি একই কথা বলেছি। তারা আমার কথা বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সংবাদে আমার বরাত দিয়ে ইউএনওকে জড়িয়ে যা লেখা হয়েছে তা সত্য নয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, প্রীতম জুয়েলার্সের মালিক তপন চন্দ্র পাল বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে লকডাউনের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় সচেতন মহল দোকান বন্ধ রাখার কথা বললেও তা আমলে নেননি তিনি। বৃহস্পতিবার ওই দোকানে অনেক খরিদ্দার ভিড় করে।

অভিযানের অংশ হিসেবে এদিন বিকালে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জায়গীর বাজারে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা। বাজারের প্রীতম জুয়েলার্সের সামনে লোকজনের ভিড় দেখে এগিয়ে যান। বিষয়টি আচ করতে পেরে স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পাল ভেতরে খরিদ্দার রেখে বাইরে থেকে দোকান বন্ধ করে দেন। বাইরেও তখন ৬-৭ জন খরিদ্দার দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা তাকে দোকান খুলতে বলেন। তিনি দোকান না খোলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমের সঙ্গে তর্কে জড়ান।

এক পর্যায়ে দোকান খুললে ভেতরে ৮-১০ জন খরিদ্দার পাওয়া যায়। তখন তাদের কারো মুখে মাস্ক ছিল না।

পরে সংশ্লিষ্ট আইনে স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পালকে দুই হাজার টাকা, খরিদ্দার বিল্লালকে এক হাজার, বিলকিস আক্তার ও শিউলি আক্তারকে পাঁচ শ টাকা করে এক হাজার টাকা জরিমানা ও আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লা। এবং দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

ঘটনার প্রত্যেক্ষদর্শী জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট কহিনুর ইসলাম সানি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। লকডাউনে দোকান খোলা রাখার অভিযোগে প্রীতম জুয়েলার্সের মালিক তপন চন্দ্র পাল ও মুখে মাস্ক না থাকায় কয়েকজন খরিদ্দারকে জরিমানা করেন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও রুনা লায়লা। পরে দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান তিনি। এসময় ইউএনও কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ ও দোকান মালিককে মারধর করেননি এবং কাউকে মারধর করার নির্দেশও দেননি তিনি। এই ঘটনা শুধু আমি একা নই এলাকার অনেক মানুষ দেখেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মুসফিকুর রহমান খান হান্নান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লাকে আপা বলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটার ঘটনাটি আদৌ সত্য নয়। আমি স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দীর্ঘ সময় কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ইউএনওকে আপা বলার কারণে তাকে লাঠিপেটা করা হয়নি। দোকান বন্ধ করতে দেরি হওয়ায় ইউএনও’র সঙ্গে থাকা এক পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে তাকে ধাক্কা ও হালকা বাড়ি দিয়েছে। ঘটনা যাই ঘটুক তার জন্য ইউএনও দায়ি নন বলে জানিয়েছেন স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পাল।

তিনি আরো জানান, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। ব্যক্তিগত আক্রোশে ইউএনও’র বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লা বলেন, রাস্তা-ঘাট ও অফিস-আদালতে সব সময় মানুষ আমাকে আপা ও খালা বলে সম্বোধন করে থাকেন। অনেকেই স্যার বলেন। যার যেটা ভালো লাগে বলেন। এসব বিষয় কখনো মাথায় আসেনি। এতে আমি দোষেরও কিছু দেখি না।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে স্বর্ণের দোকানদার তপন চন্দ্র পাল আপা না স্যার বলেছেন সেটাও খেয়াল করিনি। লকডাউনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের দায়ে বিধি মোতাবেক তাকে ও তার দোকানের কয়েকজন খরিদ্দারকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। এ নিয়ে দোকান মালিকসহ কারো সঙ্গে আমার উচ্চবাচ্য হয়নি। নির্দেশ দেওয়ার পরও দোকান বন্ধ না করায় পুলিশ সদস্য হয়তো তাকে লাঠি দিয়ে ধাক্কা দিয়েছে। এর বেশি কিছু হয়নি। এই ঘটনাকে পুঁজি করে স্থানীয় স্বার্থান্বেসী কতিপয় সাংবাদিক ব্যক্তিগত আক্রোশে আমাকে হেয় করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। যা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে উপজেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। 



সাতদিনের সেরা