kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

মাটি ভরাটের অজুহাতে কাটা হলো বিদ্যালয়ের গাছ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৯ জুলাই, ২০২১ ২১:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাটি ভরাটের অজুহাতে কাটা হলো বিদ্যালয়ের গাছ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রানাশাল উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন যুগ আগের পুরাতন মেহগনী গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাটের অযুহাতে এই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। এ নিয়ে গ্রামের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। গাছগুলো বিক্রির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানেন না বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, রানাশাল গ্রামে পাশাপাশি রানাশাল উচ্চ বিদ্যালয় ও রানাশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠ ভরাট থাকলেও উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি ভরাটের জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেন। সম্প্রতি লৌহজং নদীর কলিমাজানি এলাকা হতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ওই পুকুর ভরাট কাজ চলছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেষা প্রায় তিন যুগ আগের বিশাল আকৃতির পুরাতন ১৫-১৬টি মেহগনী গাছ এক লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। যা গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কাঠ ব্যবসায়ী গাছগুলো কাটা শুরু করেন। গাছ কাটা শুরু হলে গ্রামের মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গ্রামের বাসিন্দা মনির ও রনি কিভাবে গ্রাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে বিষয়টি তাদের জানা নেই না বলে জানান। বিদ্যালয় সংলগ্ন পাশের বাড়ির বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, আমরা জানি গাছগুলো বিদ্যালয়ের। কিভাবে বিক্রি হয়েছে তা বলতে পারবো না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান জানান, দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে লম্বা ৯ শতাংশ জমি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির নামে রয়েছে। ওই জমি গ্রামের বাহার উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গ্রাম উন্নয়ন কমিটিকে লিখে দেন। গাছগুলো ওই জমির বলে তিনি দাবি করেন। ১১ সদস্য একটি কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাটের জন্য বিদ্যালয় সংলগ্ন ওই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রানাশাল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদ দেওয়ান আব্দুল গফুর ও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী ১৯৭৫-৭৬ সালে সেফ দ্যা চিলড্রেন নামে একটি সংস্থা রানাশাল গ্রামে আসে। পরবর্তীতে আশির দশকে ওই সংস্থা গ্রামের রাস্তার পাশসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সংখ্যাক মেহগনী গাছের চারা রোপন করে। এ গাছগুলো ওই সংস্থা স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে পরিচর্যা করেন। তারাও গাছগুলো পরিচর্যা করেছেন বলে জানান।

রানাশাল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর থাকেন জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাছ বিক্রির আগে তাকে জানিয়েছিলেন। তিনি প্রধান শিক্ষককে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে আইনগতভাবে গাছগুলো বিক্রির পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গাছগুলো কাটা স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জমির পরিমাপ করে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। 



সাতদিনের সেরা