kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের ছেলের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২১ ১৮:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের ছেলের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মহি উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করে টাকা ছিনিয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর ও গ্রাম পুলিশ শামিমের বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার মহিউদ্দিন বর্তমানে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এ ঘটনায় সোমবার সকালে ২ জনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন। এর আগে শনিবার রাতে (৩ জুন) উপজেলার ভেলাগুড়ি জাওরানী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন- ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর ও গ্রাম পুলিশ শামীম। আর ভুক্তভোগী মহি উদ্দিন পূর্ব কাদমা গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে। 

জানা গেছে, গত শনিবার জাওরানী বাজার এলাকায় ভূট্টা আনলোড হচ্ছিল মহি উদ্দিনের। এসময় চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর ও গ্রাম পুলিশ শামীম মহিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

সোমবার দুপুরে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ব্যথার যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন মহি। মরধরের ফলে তার পায়ে ক্ষত হয়েছে। আর শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গেছে। মহি বলেন, আমাকে জাহাঙ্গীর ও শামিম মারধর করে দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ বিষয়ে কথা বললে মুখে অ্যাসিড মারার হুমকি দেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রাম পুলিশ শামিমকে নিয়ে দিন রাত মোটরবাইকে করে মহড়া দেন চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর। নিজেকে চেয়ারম্যান ছেলে নয় চেয়ারম্যান দাবি করেন জাহাঙ্গীর! এলাকায় দপট নিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি। চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর ও গ্রাম পুলিশ শামিম ২০২০ সালের ১৬ মে নুরুজ্জামান নামে এক যুবককে নির্যাতনের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টাও করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়। আর সেই মামলা এখনো চলমান আছে। 

এদিকে ভেলাগুড়ি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন। সেই মামলাও এখনো চলমান।

এবিষয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘তার (মহি উদ্দিনের) ঝামেলা শামিমের সাথে। শামিমের সাথে কথা বলেন।’ গ্রাম পুলিশ শামিমকে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কলটি কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে রাখেন।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



সাতদিনের সেরা