kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

টমটম রাখার সিরিয়াল নিয়ে তর্ক, চা বাগানে নিয়ে চালককে হত্যা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি॥    

৫ জুলাই, ২০২১ ১৭:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টমটম রাখার সিরিয়াল নিয়ে তর্ক, চা বাগানে নিয়ে চালককে হত্যা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আলোচিত টমটম চালক তাজুল হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। টমটম চালনার সিরিয়াল নিয়ে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে ঘাতকরা শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। রবিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে মিজানুর রহমান ওরপে নয়ন স্বীকার করে এই তথ্য জানায়। সোমবার দুপুরে চুনারুঘাট থানার ওসি আলী আশরাফ বিষয়টি সাংবাদিকদেরকে জানান।

চুনারুঘাট থানার ওসি আলী আশরাফ জানান,  আফিল উদ্দিনের পরিকল্পনায় তার সহযোগী মিজান ২৫জুন সকালে ১৫০ টাকায় চুনারুঘাট দক্ষিণ বাজারের স্ট্যান্ড থেকে তাজুল ইসলাম কে চান্দপুর বাজারের কথা বলে ভাড়া করে নিয়ে যায়। মিজান তাজুলকে বলে তার টমটমটি বিকল হয়েছে। গিলানী চা বাগানে তার টমটমটি টেনে আনার কথা বলে তাজুলকে সেখানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গলায় রশি বেঁধে আফিল উদ্দিন অজ্ঞাত সহযোগীদের নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে তাজুল ইসলাম (১৪) কে। পরে তার টমটমের ব্যাটারি খুলে নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জের একটি দোকানে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করে মিজানকে ১৯ হাজার টাকা প্রদান করে। পুলিশ ২৫জুন অজ্ঞাত নামা হিসাবে তাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করলে পরে তার পরিচয় পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ চুনারুঘাট উপজেলার কালিচং এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে নয়ন (১৯), মুল পরিকল্পনাকারী গোলগাও গ্রামের মৃত মস্তই মিয়ার ছেলে আফিল উদ্দিন (৩০)কে আটক করে। পরে মিজানুর রহমান ওরফে নয়ন আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম সোমবার আফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেছেন। 

উল্লেখ্য গত  ২৫ জুন চুনারুঘাট  পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মো: আলফু মিয়ার ছেলে মো. তাজুল ইসলাম (১৪) ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। রাতে বাড়ি না ফেরায় তার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন ২৬ জুন  সাংবাদ মাধ্যমে জানতে পারেন   গত ২৫ জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় গিলানী চা-বাগানের অভ্যান্তরে  গলায় রশি পেছানো মৃত অবস্থায় লাশটি পড়ে থাকে। স্থানীয়রা চুনারুঘাট থানা পুলিশকে খবর দিলে চুনারুঘাট থানার ওসি মোঃ আলী আশরাফ লাশটি উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে তাজুলের পিতা আলফু মিয়া বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের ৭ দিনের মধ্যে হত্যার রহস্য উন্মোচন ও আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

চালক তাজুলের পারিবারিক সুত্র জানায়, আফিল উদ্দিন কিছুদিন টমটমের সিরিয়াল ম্যান এর দায়িত্বপালন করাকালে সিরিয়াল নিয়ে ঘটনার প্রায় মাস খানেক পুর্বে আফিল উদ্দিনের সাথে চালক তাজুলের বাকবিতণ্ডা হয়। এনিয়ে বিচার শালিশও হয়েছে। এরপর থেকে তাজুলকে হত্যা করতে পরিকল্পনা করে আফিল উদ্দিন। তাজুলের পিতা আলফু মিয়া ছেলে হত্যায় জড়িতদের বিচার চান।



সাতদিনের সেরা