kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

করোনার তাণ্ডব

আইসিইউর অভাব, সীতাকুণ্ডে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)    

৫ জুলাই, ২০২১ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইসিইউর অভাব, সীতাকুণ্ডে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন আইসিইউর অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, মৃতদের একজন করোনা পজিটিভ বলে তারা নিশ্চিত হলেও অন্যদের করোনা হয়েছিল কি-না তা তারা নিশ্চিত নন। এদিকে এনিয়ে উপজেলায় মোট ১৪১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সোমবার পর্যন্ত এখানে মোট ১৪১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। তারা হলেন সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামের গণি কম্পানি বাড়ির মৃত ছালে আহামদের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৫৬) ও একই ইউনিয়নের মসজিদ্দা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জাফরের বাড়ির নুর আহম্মদের ছেলে মো. আনোয়ার (৮০) এবং অন্যজন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট এলাকার মৃত মাকসুদুর রহমানের ছেলে মাহবুবুল আলম (৬৫)। 

কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোর্শেদুল আলম চৌধুরী জানান, কুমিরায় করোনার উপসর্গ আক্রান্তের সংখ্যা ভয়াবহ হারে বেড়েছে। ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্টের রোগী। ভয়ে বেশির ভাগ মানুষ পরীক্ষা করাচ্ছে না কিন্তু জ্বর-কাশিগুলো দ্রুতই শ্বাসকষ্টে রূপ নিয়ে মৃত্যু ঘটাচ্ছে। 

তিনি বলেন, কুমিরা এলাকায় এরকম শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের নামই আনোয়ার। এদের মধ্যে মধ্যবয়সী আনোয়ারের শ্বাসকষ্ট শুরুর পর আইসিইউর প্রয়োজন দেখা দিলেও আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ খালি না থানায় চমেকে নিয়ে যায়। সেখানেও আইসিইউ না পাওয়ায় তিনি জরুরি চিকিৎসার অভাবে মারা যান। অপর একজন মসজিদ্দা এলাকার বৃদ্ধ মো. আনোয়ারের দুই ছেলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন আগে বাড়ি আসলে আক্রান্ত হন তাদের বাবা। 

সোমবার দুপুরে তিনিও শ্বাসকষ্টে মারা যান। এছাড়া সোমবার সকালে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাদামবিবিরহাটের বাসিন্দা মাহবুবুল আলম।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ বলেন করোনা ও উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা গেলেও তাদের মধ্যে একজনের করোনা পজিটিভ বলে আমরা নিশ্চিত। অন্যদের উপসর্গ থাকলেও তারা করোনা কি-না নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে উপজেলায় করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর পরীক্ষা না করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নেওয়ায় অধিকাংশ মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন। যথাসময়ে তারা পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ মানুষ সুস্থ হয়ে যাবে। তাই জ্বরসহ অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করানোর জন্য তিনি পরামর্শ দেন।



সাতদিনের সেরা