kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

করোনায় তাদের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ

জীবিকার তাগিদে পত্রিকা নিয়ে ছুটে চলা তাদের

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২১ ১৬:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবিকার তাগিদে পত্রিকা নিয়ে ছুটে চলা তাদের

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাইসাইকেলের প্যাডেল মেরে অথবা পায়ে হেঁটে পত্রিকা বিক্রি করেন বিক্রেতারা। আবার অনেকেই মোটরসাইকেল ও রিকশায়ও পত্রিকা বিক্রি করেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তাদের পাশে সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থায় এখনো দাঁড়ায়নি।

এমন অবস্থায় আয়-রোজগারের বিপর্যয় ঘটায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মানবেতর জীবন যাপন করছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার পত্রিকা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ২০-২৫ জন এজেন্ট ও বিক্রয় প্রতিনিধি। তাদের বেশির ভাগেরই সামান্য আয়-রোজগার। এখন তা-ও বন্ধের পথে। দোকানে দোকানে এবং বাড়িতে বাড়িতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠকের কাছে পত্রিকা নিয়ে ছুটে যান তারা।

এদিকে প্রায় সবকটি জাতীয় পত্রিকা গণসচেতনতায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস পত্রিকার কাগজের মাধ্যমে ছড়ায় না। তারপরও বিক্রি তেমন বাড়েনি। এর মধ্যে আবার করোনাভাইরাসের কারণে কঠোর লকডাউনে জাতীয় ছুটি থাকায় অফিস আদালত ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পত্রিকার বিল তুলতেও হকারদের বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সময় মতো পাওনা না পেয়ে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পায়ে হেঁটে যাওবা বিক্রি করতেন বিক্রেতারা সেটাও লকডাউনের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেটাও অল্পসংখ্যক পত্রিকা বিক্রয় হয়।

আজ সোমবার সকালে বোয়ালমারী পৌরসদরের চৌরাস্তায় মেসার্স হাবিবুর রহমান পত্রিকা এজেন্টের ঘরে পত্রিকা এসে নামার পর কথা হয় কয়েকজন পত্রিকা বিক্রয় প্রতিনিধির সাথে। তার মধ্যে উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের বাগুয়ান গ্রামের রুস্তুম আলী নামে একজন বিক্রেতাকে বাইসাইকেলে পত্রিকা বাঁধতে দেখা যায়। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে পত্রিকা সংগ্রহ করে বাই সাইকেলে নিয়ে ছুটে বেড়ান উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক উপজেলা পর্যন্ত। বোয়ালমারী উপজেলার পৌর শহর হতে সাতৈর বাজার হয়ে পাশ্ববর্তী মধুখালি উপজেলার নওয়াপাড়া পর্যন্তু তিনি পত্রিকা নিয়ে বাইসাইকেলে বিক্রি করেন। তিনি বাইসাইকেল চালিয়ে কমপক্ষে ২০টি পয়েন্টে পত্রিকা বিক্রি করেন। প্রায় আসা যাওয়া দিয়ে প্রতিদিন ৪০ কিলোমিটার সাইকেল চালাতে হয় তার।

তিনি আরো জানান, লকডাউন থাকার কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় সেটাও ঠিকমত করতে পারছেন না। তারপরও আবার বৃষ্টির মৌসুম। ১৫ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে কোনোমত চলছে তার পরিবার নিয়ে জীবন জীবিকা। তবে করোনাভাইরাস সংক্রামণের আগেই ভালো যাচ্ছিল তার জীবন জীবিকা।

এ ব্যাপারে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী রুটের পত্রিকা এজেন্ট মেসার্স হাবিবুর রহমান এর সত্ত্বাধীকারী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শুধু রুস্তুম আলী নন, এ উপজেলার পৌরসদর বাজার, সাতৈর বাজার, মুজুরদিয়া বাজার, চিতার বাজার, ময়েনদিয়া বাজার, সহস্রাইল বাজার, রূপাপাত-কালিনগর বাজার, গোহার্ইলবাড়ির বাজার, খরসূতি বাজারসহ জাতীয় ও স্থানীয় মিলে পত্রিকা বিক্রি করেন প্রায় ১৫ জন বিক্রেতা। রুস্তুম ২০০৫ সালে এই ব্যবসার সাথে জড়িত হয়। তিনি এই ব্যবসার মাঝেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাবা, মা, স্ত্রীসহ দুই মেয়ে রয়েছে তার সংসারে। সহায় সম্পত্তি বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছু নেই। আবার দুটি সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয় তার তিনি বলেন, কালের কণ্ঠসহ এ উপজেলায় করোনাভাইরাসের আগে প্রায় ১৪০০ পত্রিকা চলতো। এখন সেখানে মাত্র ৬০০ পত্রিকা আনতে হয়।

অপরদিকে পাশের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকার এজেন্ট ইকরামুল ইসলাম বলেন, তার উপজেলা ছোট একটি এলাকা। তারপরও করোনাভাইরাসের আগে প্রায় ৮০০ কপি পত্রিকা চলত। সেখানে এখন ৫০০ কপি চলে। এর আগে জীবন জীবিকা মোটামুটি চলছিল। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। সরকারি-বেসরকারি অফিস আংশিক খোলা থাকলেও আগের মতো এলাকায় পত্রিকা চলে না। কারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ উপজেলায় তিনিই একজন মাত্র পত্রিকা এজেন্ট গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতি দিয়ে আলফাডাঙ্গায় পত্রিকা পৌঁছায়। তার এখানে সঞ্জিত মন্ডলসহ সাতজন বিক্রয় প্রতিনিধি রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার অবস্থা সংকটের মধ্যে রয়েছে।



সাতদিনের সেরা