kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

মোল্লাহাটে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে খামারিদের হতাশা

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২১ ১৫:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মোল্লাহাটে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে খামারিদের হতাশা

করোনা মহামারির সময়ে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে এবার কোরবানির পশু বিক্রি ও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরুর খামারি ও ব্যবসায়ীরা। করোনায় যখন গোটা দেশ থমকে গেছে তখন কোরবানির পশু বিক্রি বা দাম সঠিকভাবে পাওয়া যাবে কি-না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন মোল্লাহাটের ১৩৩০টি গরু লালন-পালনকারী খামারি। এছাড়া যারা বাড়িতে বেশি দামের আশায় গরু পালন করছেন তারা গরু বিক্রি করতে পারবেন কি-না অথবা সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। 

মুনাফা লাভের আশায় যে গরু তারা লালন-পালন করেছেন সঠিক দাম না পেলে অনেক খামারিকে পথে বসতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে। স্বল্প আয়ের পরিবারের যারা গরু পেলেছেন তারা আরো বিপদে পড়বেন। করোনার এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোরবানির গরু ব্যবসায়ী ও লালন-পালনকারী পরিবারগুলো যাতে করে সঠিক দাম পায় সেদিকে সরকারের সাহায্য চান তারা। তারা আরো বলেন, মোল্লাহাটের দুটি পশুর হাট- উদয়পুর ও গাংনী হাটটি যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসন যদি খুলে দেয় তাহলে আমাদের গরুগুলো বিক্রিয় করতে পারব।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, কোরবানিতে অন্যান্য বারের চেয়ে একটু বেশি দাম পেয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করে অধিক মুনাফার আশায় মোল্লাহাট উপজেলায় ৪১৫২টি গরু, ছাগল ও ভেড়া লালন পালন করছেন ১৩৩০টি খামারি ও ব্যবসায়ী। কিন্তু করোনার কারণে এবার কোরবানিতে পশু বিক্রি করতে পারবে কি-না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। একদিকে গরু বিক্রি আর অন্যদিকে সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তিত এরা।

উপজেলার চরকুলিয়া গ্রামের গরুর খামারি রাজু সরদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বছর আমার খামারে দেশি জাতের ১০টি গরু আছে। কিন্তু করোনার কারণে কোনো ক্রেতা আসছে না। আবার খাবারের দামও খুব বেশি। একটা গরু প্রস্তুত করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এমস অবস্থায় যদি গরু বিক্রি করতে না পারি তাহলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আবার মোল্লাহাটে করোনার কারণে পশুর হাটগুলো বন্ধ রয়েছে। অনলাইনে কিভাবে গরু বিক্রি করতে হয় সেই বিষয়ে ভালো বুঝি না। তাই প্রশাসন যদি পশুর হাটগুলো খুলে দেয় তাহলে গরুগুলো বিক্রি করতে পারব।

উপজেলার চাঁদেরহাট এলাকার কাঁকড়ী গ্রামের গৃহস্থ খামারি মো. নাজমুল মোল্লা জানান, আমার খামারে ১৩২৫ কেজি ওজনের একটি গরু রয়েছে। গরুটি আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন মিলে ৩ বছর ধরে লালন-পালন করছি। শখের বসে গরুটির নাম দিয়েছি হিমালয়, প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আমার গরু দেখতে বাড়িতে ভিড় জমান। আমার গরুর পেছনে প্রতিদিন ঘাস, ফলমূল, শাকসবজির পাশাপাশি ৭ শ-৮ শ টাকার দানাদার খাবার খাওয়াতে হয়। হিমালয়ের দাম ধরা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। তবে যাতে ন্যায্যমূল্য পাই সেজন্য সরকারের সহায়তা কামনা করছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিনয় কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, মোল্লাহাট উপজেলা গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে বিখ্যাত। গত বছরের জরিপ অনুযায়ী, গরু ছাগল ও ভেড়া ছিল ৪৫৫৫টি। এবার সেই সংখ্যা কমে ৪১৫২টিতে নেমেছে। খামারিদের অতিরিক্ত দামে দানাদার খাদ্য ক্রয় করতে হয়েছে। গরু যখন বিক্রির সময় হয়েছে ঠিক সেই সময় তারা হতাশায় ভুগছেন গরুর ন্যায্য দামের চিন্তায়। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপজেলার পশুর হাটগুলো যদি খুলে দেওয়া হয়, তাহলে খামারি ও ব্যবসায়ীরা তাদের গরুগুলো ন্যায্য দামে বিক্রি করে উপকৃত হবেন। তিনি আরো বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের অনলাইন পেজে পশুর ছবি দিয়ে পশু বিক্রির জন্য খামারিদের সহযোগী ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।



সাতদিনের সেরা