kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স: ১৫ বছর ধরে অকেজো এক্স-রে মেশিন!

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি    

৪ জুলাই, ২০২১ ১৫:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স: ১৫ বছর ধরে অকেজো এক্স-রে মেশিন!

১৫ বছর ধরে তালাবদ্ধ এক্স-রে রুমটি

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। একই সাথে টেকনোলজিস্ট ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে নতুন আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটিও নিয়মিত চালু হচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও মাঝে মাঝে থমকে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে, উপজেলা সদরের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তির শেষ নেই সেবা গ্রহিতাদের। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নিয়মিত চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে জেলা শহরের বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৫ বছর আগের এক্স-রে মেশিনটি ইনস্টল করতে গিয়ে আর চালু করতে পারেনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েও সমাধান হয়নি। আবার হাসপাতালটিতে সদ্য প্রদান করা আল্ট্রাসনোগ্রাফির মেশিনটিও লোকবলের অভাবে পড়ে আছে। মাঝে মাঝে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান দু’-একজন অসহায় রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেন। টেকনোলজিস্ট ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় না। এ বিষয়েও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাঘারপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিন আউটডোরে  ৩শ’ থেকে ৫শ’ রোগী সেবা নিতে আসেন। ভর্তি হয় আরও ১০ থেকে ২০ জন। এতো রোগীর সেবা দেওয়া হয় এই হাসপাতালে। রোগ নির্ণয়ে সরকার এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির কারণে সেটি মানুষের উপকারে আসছে না। ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে হাসপাতালে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন প্রদান করে উপজেলা পরিষদ। মাঝে মাঝে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান দু’একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেন। এতে রোগীরা খুশি হলেও অধিকাংশ সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়তে হয় রোগিদের। বাধ্য হয়ে পরীক্ষা করাতে জেলা শহরে ছুটতে হয় তাদের। 

এদিকে ত্রুটি থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উপজেলা সদরের সবকটি ডায়াগনেস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকারি হাসপাতালের উল্লেখযোগ্য মেশিনগুলো অকেজো ও নিয়মিত চালু না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতালে ভর্তি ও আউটডোরে সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রক্তের কয়েকটি পরীক্ষা ছাড়া হাসপাতালে বড় ধরনের পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। যে পরীক্ষাগুলো আগে স্থানীয় বেসরকারি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে হতো, সেগুলো এখন বেশি টাকা খরচ করে যশোর থেকে করে আনতে হচ্ছে। এতে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি গুনতে হচ্ছে বেশি টাকা। সরকারি হাসপাতালে মোটামুটি সব পরীক্ষা হলে খরচও কম লাগতো। গরীব অসহায় রোগীরাও অল্প খরচে সেবা নিতে পারতেন। দ্রুত হাসপাতালের মেশিন মেরামতের দাবি জানান তারা।

বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে এক্স-রে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়। ওই সময় এক্স-রে মেশিন ইন্সস্ট্রল করতে গিয়ে আর চালু করতে পারেনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। চারবার মেরামত করতেও টেকনিক্যাল টিম এসেছে। তারা ঠিক করতে পারেনি। প্রতিমাসে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখছি এক্স-রে মেশিনটি চালু করার জন্য। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। 

তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে ৭০ টাকায় এক্স-রে করানো যায়। মেশিন চালু না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে যাচ্ছেন। স্থানীয় ডায়াগনস্টিকগুলো বন্ধ হওয়ায় এক্স-রে প্রায় সবাই যশোর থেকে পরীক্ষা করে আনছেন। ২০০ টাকা মূল্যের পরীক্ষা করাতে ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা খরচ হচ্ছে তাদের।



সাতদিনের সেরা