kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

বাগেরহাটের মোল্লাহাট

'যদি করোনা হয়' ভয়ে নমুনা দিচ্ছেন না অনেকে

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি    

৪ জুলাই, ২০২১ ১৩:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'যদি করোনা হয়' ভয়ে নমুনা দিচ্ছেন না অনেকে

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে জ্বর সর্দি ও কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সব বয়সী লোকজন ওইসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত হওয়া বেশিরভাগ রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে এসব রোগীর সংখ্যা। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে গড়ে ওঠা ফার্মেসির দোকানগুলোতে প্যারাসিটামল, নাপা ও অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি অনেকে গোপন রেখে পারিবারিকভাবে সতর্ক থেকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে আসছেন। হোম কোয়ারেন্টিন ও বাড়ি লকডাউন পরিস্থিতি এড়াতে কেউ করোনা পরীক্ষা করতে চান না। এতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নানা বয়সী লোকদের জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের আক্রান্ত হওয়া ওইসব রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে যাচ্ছেন। আবার অনেকে গোপনীয়তার সঙ্গে বাড়িতে ওষুধ এনে খাচ্ছেন। করোনার ভয়ে তারা নমুনা পরীক্ষা করতে দিচ্ছেন না। আর যারা করছেন তাদের মধ্যে অনেকেই করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। 
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, সাধারণত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে প্রতিটা পরিবারে সর্দি, কাশি ও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যেহেতু সময়টা ভালো যাচ্ছে না তাই যাদের জ্বর-কাশি হচ্ছে তাদের উচিত যত্রতত্র ঘোরাঘোরি না করা। তাছাড়া ঘরে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি তরল জাতীয় খাবার ও বিভিন্ন ফলমূল খাওয়া এবং চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিতে হবে। এছাড়া মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে, তাই জ্বরসহ সর্দি-কাশি দেখা দিলে করোনা পরীক্ষা করাসহ আমাদের হটলাইন নম্বরে ফোন করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ওয়াহিদ হোসেন বলেন, আগামীকাল সোমবার থেকে কভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে, করোনা রোগী শনাক্তকরণ ও কভিড টেস্ট যাতে মোল্লাহাটে শতভাগ করা যায় সেই লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হবে যা শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হতো। ইউনিয়ন ভিত্তিক যেসকল বাড়িতে জ্বর, সর্দি, কাশি বা করোনার উপসর্গ দেখা দেবে সেসকল বাড়ির তথ্য স্বেচ্ছাসেবকরা সংগ্রহ করবেন এবং নির্ভয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য উৎসাহ দেবেন। তিনি আরো বলেন, করোনা রোগীকে অবহেলা করার কিছু নেই, যারা করোনা শনাক্ত হবেন তাদের পরিবারের চিকিৎসা এবং সার্বিক সহায়তা উপজেলা প্রশাসন করবে। 



সাতদিনের সেরা