kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১।৮ সফর ১৪৪৩

নাসিরনগরের হাওড়ে পানি নেই

সুখদেবদের সুখ অধরা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া    

১ জুলাই, ২০২১ ২১:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুখদেবদের সুখ অধরা

মধ্য আষাঢ়। বৃষ্টির মৌসুম। বেশি কিছুদিন যাবত বৃষ্টিও হচ্ছে। বৃষ্টিতে অনেকে ত্যক্ত-বিরক্ত। তবে সেভাবে পানি নেই নদ-নদী, খাল-বিলে। পানি আসেনি হাওড়েও। যে কারণে দুশ্চিন্তায় জেলেরা। এনজিও’র ঋণ থেকে শুরু করে মহাজনের দেনার চিন্তা পেয়ে বসেছে তাদের।

চিন্তার ভাজ নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুখদেব দাস। নিজ বাড়িতে বসেই জাল বুনছেন। তিনি জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে প্রতিমাসে কিস্তি হিসেবে পাঁচ হাজার দুইশ’ টাকা দিতে হয়। কিন্তু হাওড়ে পানি না আসায় মাছ ধরতে পারছেন না। যে কারণে সংসারের পাশাপাশি কিস্তি কিভাবে চালাবেন এ নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। 
একই কথা জানালেন জেলে পরিবারের সদস্য গেন্টু দাস।

তিনি জানান, মহাজনের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে রেখেছেন। সেই টাকায় মাছ নৌকা, জাল, বাঁশসহ আনুষাঙ্গিক জিনিস কিনে ধরার প্রস্তুতিও সম্পন্ন। কিন্তু হাওড়ে পানি না আসায় তার মতো অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

সুখদেব, গেন্টুর মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের হাওড় পাড়ের অন্তত দুইশ’ জেলে পরিবারে সুখ নেই। বর্ষা মৌসুমেও হাওড়ে পানি না থাকায় মাছ ধরতে পারছেন না বলে অর্থনৈতিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে ওইসব পরিবারগুলোতে।

হাওর পাড়ের একাধিক জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষার এই সময়টাতে রাত থেকে জেলে পল্লীতে কর্মব্যস্ততা থাকতো। জেলেরা বেরিয়ে পড়তেন মাছ ধরতে। ফিরে এসে বাজারে বিক্রি করতেন মাছ। আর মাছ বিক্রির আয়েই চলতো সংসার। কিন্তু চলতি বছরের চিত্র ভিন্ন। এখনো সেভাবে পানি আসে নি হাওড়ে।

সদরের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সদস্য রতি কান্ত দাস জানান, হাওরপাড়ের জয়নগর, চিংড়িপাড়া, ছেঙ্গাপুর এলাকার অন্তত দুই শ জেলে এরই মধ্যে এনজিও, দাদন ব্যবসায়ী, মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রেখেছেন। মাছ ধরে বিক্রির পর আয় থেকেই ঋণ শোধ করার কথা। কিন্তু প্রকৃতির ভিন্ন রূপের কারণে এখনো হাওড়ে পানি আসে নি। যে কারণে লাখ টাকা ব্যয় করে রাখা জেলেরা বেশ বিপাকে।

উপজেলার বৃহৎ মৎস্যজীবী সমিতি ধীবর মৎস্য  সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল দাস জানান, বর্ষা মৌসুমে ঠিক মতো পানি থাকলে প্রচুর দেশি মাছ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। তবে এবার এখনও পানি আসেনি। যদিও আশাহত হয়নি কেউ। কিছুদিনের মধ্যেই হাওড়ে পানি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা মৎস্য বিষয়ক কর্মকর্তা তাজমহল বেগম জানান, বর্ষা মৌসুমেও হাওরে পর্যাপ্ত পরিমান পানি না আসার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। সরকারিভাবে এই মুহূর্তে জেলেদের জন্য কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। তবে হাওরাঞ্চলের জাতিসংঘের একটি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। সেই প্রকল্প থেকে জেলে পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌঁলা খান জেলেদের সার্বিক অবস্থা জানতে পেরে তাদেরকে সহযোগিতার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএওন) নির্দেশ দেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা