kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

মাগুরায় সুইপার কলোনিতে যুবককে হত্যা

মাগুরা প্রতিনিধি    

৩০ জুন, ২০২১ ১২:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাগুরায় সুইপার কলোনিতে যুবককে হত্যা

মাগুরা শহরের মাতৃসদন পাড়ার সুইপার কলোনির নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে মানিক লাল (৩৮) নামে হরিজন সম্প্রদায়ের এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে শহরের মাতৃসদন হাসপাতাল সংলগ্ন সুইপার কলোনি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। গত মধ্যরাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করে। 
 
নিহত যুবক মানিক লাল সুইপার কলোনীর মৃত বাবু লাল ও লক্ষি রানির ছোট ছেলে। মাগুরা পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরির পাশাপাশি নিজ বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকান ছিল তার।
 
নিহতের বড় ভাই হিরা লাল জানান, ভোর চারটার কিছু সময় আগে ছোট ভাই নিহত মাণিক লালের ছোট ছেলে শানের (৬) ডাকে তাদের ঘুম ভাঙে। নিহতের শিশু ছেলে শান জানায় তার বাবার গলা দিয়ে রক্ত ঝরছে। এ সময় পাশের ছোট ভাইয়ের বাড়িতে এলে মানিক লালের নিজ ঘরের মেঝেতে তার রক্তাত্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এর পর খবর পেয়ে মিরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ অথবা কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তাৎকক্ষণিকভাবে বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানান নিহতের বড় ভাই হিরা লাল। 
 
নিহত মানিক লালের বড় ছেলে আসন লাল (১৭) বলেন, কদিন আগে মায়ের হাত ভেঙে যাওয়ায় তাদের মা চুয়াডাঙ্গা তাদের নানির বাড়িতে গিয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে বাবার সাথে আমার বাকবিতণ্ডা হওয়ায় রাতে ছোট ভাইকে নিয়ে বাবা আমাদের ঘরে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। আমি রাতে পাশেই বড় চাচার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। ভোররাত্রে ছোট ভাইয়ের চিৎকারে ছুটে এসে দেখি এই অবস্থা।
 
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ ও প্রশাসন কামরুল ইসলাম জানান, স্থানীয় প্রতিবেশীসহ পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। মাঝেমধ্যে মাদকের আড্ডা ও বিভিন্ন লোকজনের আনাগোনা ছিলো বাড়িতে। এছাড়া কদিন আগে ওই যুবক লক্ষাধিক টাকায় একটি গরু বিক্রি করেছেন। তবে সেই টাকা ঘরের আলমারিতে অক্ষত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওই যুবকের পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে অন্যদের সাথে বিরোধ ছিল। এই সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। 
 
উল্লেখ্য, শহরের প্রাণকেন্দ্রে নিজ বাড়িতে নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় হরিজন সম্প্রদায়ের লোকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


সাতদিনের সেরা