kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

শতবর্ষের মুখেও সবজির বোঝা টানেন ভূমিহীন মোসলেম

ইকবাল হাসান, লোহাগড়া (নড়াইল)    

৩০ জুন, ২০২১ ০৮:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শতবর্ষের মুখেও সবজির বোঝা টানেন ভূমিহীন মোসলেম

শাক-সবজির বোঝা নিয়ে এভাবে রাস্তায় রাস্থায় বিক্রি করেন মোসলেম মোল্যা। ছবি: কালের কণ্ঠ

বয়স প্রায় ৯৮। এই সময়েও পেট চালাতে রাস্তায় রাস্তায় শাক-সবজি  বিক্রি করতে হয় ভূমিহীন মোসলেম মোল্যাকে। এখনও জোটেনি সরকারি কোনো ভাতার কার্ড। এমনকি করোনাকালেও জোটেনি কোনো অনুদান।

চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তারা এখন শ্বশুর বাড়িতে। নিজের সংসারে রয়েছেন কেবল স্ত্রী। নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মুলদাইড় গ্রামের বাসিন্দা হলেও মোসলেম মোল্যাকে পেটের তাগিদে শাক-সবজি পিঠে নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে লোহাগড়ার নানা অঞ্চলে। সারা দিনে যা পান, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে দুইজনের সংসার। 

লোহাগড়া  উপজেলা পরিষদের সামনের মহাসড়কে কথা হয় এই অশীতিপর বৃদ্ধের সঙ্গে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। পিঠে শাক-সবজির ঝুঁলি। কপাল দিয়ে ঘাম ঝরছিল। সমস্ত শরীরজুড়ে ক্লান্তির ছাপ। বলেন, 'আমার নিজের কোনো জায়গা-জমি নাই। অন্যের বাড়িতে একটি ঝুঁপড়ি ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছি।' আক্ষেপ নিয়ে আরো বলেন, 'আমি কোনো সরকারি অনুদান পাই না, এমনকি আমাকে কেউই একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পর্যন্ত করে দেয়নি।'

গ্রামের বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গা থেকে কচুরলতি, ঘাটকোল, কচুরডগা, কলমি শাক ও থানকুনির পাতা সংগ্রহ করে তা বিক্রি করেন তিনি। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। বলেন, 'সৎভাবে উপার্জন করে বেঁচে থাকতে চাই, এজন্য কষ্ট হলেও ভিক্ষা করি না।'

নিজের কোনো জমি নেই। করোনা মহামারিতে লকডাউনকে উপেক্ষা করে দুমুঠো ভাতের জন্য এখনও কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁকে।

অসহায় মোসলেম মোল্যাকে সহযোগিতা করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী বনি আমিন।  



সাতদিনের সেরা