kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

সরিষাবাড়ীতে

ভেঙে পড়া সেতুর নিচে কচুরিপানার জট, পারাপারে দুর্ভোগ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি   

২৮ জুন, ২০২১ ২১:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভেঙে পড়া সেতুর নিচে কচুরিপানার জট, পারাপারে দুর্ভোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈরে ভেঙে পড়া সেতুর নিচে কচুরিপানার জট। পারাপারে দুর্ভোগে চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ।

বন্যায় পানির স্রোতে ভেঙে গেছে সেতু। অপরদিকে সেতুর চারপাশে নদীতে কচুরিপানার জটে ব্যাহত হচ্ছে নৌকা পারাপার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দুপাশের চরাঞ্চলের ২৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর গ্রামে বয়ে যাওয়া ঝিনাই নদে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ কচুরিপানার জট দেখা দিয়েছে। ২০২০ সালের বন্যায় পানির তোড়ে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুর তিনটি স্প্যান দেবে তিনটি গার্ডার ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে নদে পারাপারে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষ।

সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডি ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে গ্রামীণ যোগাযোগ এবং হাট-বাজার উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়। এটি শিমলাবাজার-মাদারগঞ্জের শ্যামগঞ্জ –কালিবাড়ী ভায়া সরিষাবাড়ী সড়কের ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার সেতু। এ সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৬ সালে। সেতুটি নির্মাণ হওয়ার পর থেকে চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সুবিধাসহ কৃষি উৎপাদিত পণ্য পরিবহন করে আসছিল। এতে সময়ও সাশ্রয় হতো। সেতুটি থাকায় নিম্নআয়ের মানুষ অটোরিকশা ও ভ্যান চালিয়ে পেটের খাবার যোগাড় করতে পারত। এতে তাদের অভাব অনেকাংশে মিটে যেত।

কিন্তু এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়া সেতুটি ঘিরে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এর দেখারও কেউ নেই। শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ও যাতায়াতের একমাত্র পথ ঝিনাই নদ। এর ফলে চরাঞ্চলের মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে আবার এক কিলোমিটার জুড়ে ঘন কচুরিপানার জট দেখা দিয়েছে। এতে নৌকায় করে পারাপার হতে চরমভাবে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

পার হতে আসা আশরাফুল ইসলাম, বাসেদ মিয়া, হাফিজুর রহমান মানিক, খলিলুর রহমানসহ আরো অনেকে বলেন, গত বন্যায় সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পারাপার হতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান এলাকার মানুষের পারাপারের জন্য একটি সেলো নৌকা দিয়েছেন। সেটা দিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছে। কিন্তু নদীতে কচুরিপানার জটে এখন নৌকা দিয়েও পারাপার হতে পারছি না। তাই আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রকিব হাসান কালের কালের কণ্ঠকে জানান, ভেঙে যাওয়া সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্রিজের পাশে নতুন করে একটি সেতু নির্মাণ কাজের প্রস্ততি চলমান রয়েছে। সেতু তৈরি ব্যয়ের বরাদ্দ পেলেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে। নদে কচুরিপানা এসে জট বেধেছে সেটা আমার জানা নেই।



সাতদিনের সেরা