kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

স্থলবন্দরের প্রবেশদ্বারের গর্তে পণ্যবাহী ট্রাক, ৫ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি    

২৫ জুন, ২০২১ ০৮:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্থলবন্দরের প্রবেশদ্বারের গর্তে পণ্যবাহী ট্রাক, ৫ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে  প্রবেশের ১ ও ২ নম্বর গেইটের সড়কের গর্তে পড়ে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক অচল হয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে শত শত ভারতীয় ট্রাকচালক প্রায় ৫ ঘণ্টা পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখেন।

এদিকে, পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখার ফলে জিরো পয়েন্ট থেকে পুরো স্থলবন্দরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

অপরদিকে, স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো, বন্দর পরিচালনায় টাকা নেওয়া, দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে উপপরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ভূঁঞার প্রত্যাহার দাবি করে ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থলবন্দরের চেয়াম্যানের কাছে  আবেদন করে প্রতিকার চেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বুড়িমারী স্থল বন্দরের সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো রেখে পরিচালনা করার নিয়ম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে  বুড়িমারী স্থল বন্দরজুড়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, গাড়ি প্রবেশের গেটের  সড়ক সমূহ খানা- খন্দে ভরা, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় পণ্য নষ্ট, পণ্য রাখার ইয়ার্ডগুলোতে পচা দুর্গন্ধ, ম্যানহোলের ঢাকনা নেই, ওয়ে ব্রিজে যানজট, শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় এর প্রতিকার চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানালেও কাজ না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে।

একপর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দরে প্রবেশের ১ নম্বর গেইটের কাছে গর্তে পড়ে একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চাকা নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া ২ নম্বর গেইটে ভারতীয় পণ্যবাহী আর একটি ট্রাকের ইঞ্জিন বিকল হয়। অনেক চেষ্টা করেও ট্রাকের চালকরা ট্রাক দুটি সচল করতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এ ঘটনায় পণ্য আমদানি- রপ্তানিতে নিয়োজিত গাড়িচালক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানান। সড়ক ও পরিবশে ঠিক না করলে আর পণ্য পরিবহন করবেন না জানিয়ে সকাল ১১টা থেকে ভারতীয় গাড়ি চালকদের সঙ্গে  একাত্মতা জানিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টা  একযোগে বুড়িমারী স্থল বন্দরে সব ধরনের পণ্য পরিবহন, পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ রাখেন শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী এবং ব্যবসায়ীরা। ফলে জিরো পয়েন্ট থেকে পুরো স্থল বন্দর সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক ও খালি ট্রাকের প্রকট যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে বুড়িমারী কাস্টমস, পুলিশ, বন্দরের প্রচেষ্টায় গাড়ি চলাচল শুরু হয়।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, স্থলবন্দরের কাজ করা হচ্ছে। দ্রুত ঠিক করার চেষ্টা চলছে।' তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, 'কী আর বলব। তাঁরা তাদের মতো করে লিখেছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখবে।'

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, 'রাস্তার তো টেন্ডার হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার হবে। এটা ডেভেলভমেন্ট শাখা দেখে। আমি দ্র্রুত কন্ট্রাক্টরকে পাঠিয়ে রাস্তাগুলোর গর্ত ভরাট করে দিতে বলেছি। প্রত্যহারের কপি আমি পাইনি। চেয়ারম্যানের কাছে হয়তো পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 



সাতদিনের সেরা